Showing posts with label সাইকেল. Show all posts
Showing posts with label সাইকেল. Show all posts

Monday, September 16, 2019

‘ওয়ার্ল্ড কার ফ্রি ডে’( WORLD CAR FREE DAY )

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=2553689734651413&set=a.104403046246773&type=3&theater
‘ওয়ার্ল্ড কার ফ্রি ডে’( WORLD CAR FREE DAY ) আগামী ২২ সেপ্টেম্বর, রবিবার।
বেশ কয়েকটি দেশের বেশ কয়েকটি শহরে চলবেনা বাস, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরবাইক। বছর পঞ্চাশেক আগে খনিজ তেলের সঙ্কটের সময় কোথাও কোথাও এরকম দিন পালনের প্রতীকী প্রয়োজন পড়েছিল। সময় পাল্টেছে। এখন পরিবেশের কথা মাথায় রেখে দিনটি পালিত হয়। কলম্বিয়ার বোগোতার মত বেশ কিছু শহরে বছরে একবার মাত্র ‘কার ফ্রি ডে’ নয়, সপ্তাহে বা মাসে এক দিন করে গাড়ি চালানো হয়না। সবাই যায় হেঁটে বা সাইকেলে।
৩৬৫ দিনে ১ দিন দূষণ কমলে কী আর হবে?
মানছি আপনার কথা। এতে হয়ত ১ শতাংশও দূষণ কমবে না। কিন্তু মাত্র ৫ শতাংশ ডি এ বাড়লেও তো আনন্দের শেষ থাকেনা। তাই ২২ সেপ্টেম্বর ‘কার ফ্রি ডে’ পালন করি চলুন।
এটা একটু বেশিই আঁতলামি হয়ে যাচ্ছে না কি? গাড়ি থাকতে সাইকেল চড়ব, পায়ে হাঁটব?
রোজ সন্ধ্যেয় হুইস্কি ভদকা গিলেও তো পুরুলিয়াতে মহুয়া খেতে যাই। তাই ‘একটা কার ফ্রি ডে’।
আমি একা এটা করলে দূষণ বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে কি?
না, হবে না। এই বিশাল পৃথিবীতে আমি-আপনি নগণ্য। আমাদের কেউ হিসেবের মধ্যে ধরেই না। তাই তো আমার-আপনার গ্ল্যামারও নগণ্য। আসুন একদিন গ্ল্যামার ছাড়ি, প্রয়োজন ছাড়ি। সবাইকে বুক বাজিয়ে শেয়ার করে জানিয়ে দিন ‘কার ফ্রি ডে’।
যে কাজগুলো গাড়ির জন্য করলাম না। সেগুলো তো পরের দিন করতে হবে। কাজটির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ধোঁয়া সেইই তো বেরোলো। লাভ কিছু হল কি?
কখনও হিসেব কষে দেখেছি, সারাদিনে আমরা অ-কাজে কতটা ধোঁয়া বের করি? কিছু অকাজের ধোঁয়া তো বেরোলো না। তাই তো হ্যাপি ‘কার ফ্রি ডে’।
‘কার ফ্রি ডে’ পুঁজিবাদী অর্থনীতির ক্রাইসিস থেকে উঠে আসা একটি আইডিয়া। ক্রাইসিস মোকাবিলায় তারা এটাকে হুজুগে পরিনত করতে চাইছে।
ঠিকই ধরেছেন। তবে এটা মানেন তো ক্রাইসিস থেকে উঠে আসা ঈশ্বরেরা আজ হুজুগ। এজন্যই তো বলছি, করুন না একটামাত্র ‘কার ফ্রি ডে’।
সেদিনে কী করবে পরিবহনের সাথে বিভিন্ন ভাবে যুক্ত ‘দিন আনি দিন খাই’ শ্রমিকেরা?
শ্রমিকটি কোনো দিন প্রাণ ভরে শ্বাস পেয়েছে কিনা জেনেছি? শুধিয়েছি কখনও, সে একদিন উপোষের বিনিময়ে শ্বাসবায়ু চাইছে নাকি? তাকে চুপি চুপি ডেকেছি পায়ে হাঁটার মিছিলে? তাকে বলেই দেখুননা ‘কার ফ্রি ডে’র গল্প।
গাড়ি না হয় চলল না। কিন্তু কারখানা? থার্মাল পাওয়ার প্ল্যাণ্ট? রান্নার উনুন?
ক্লাসে সবাই ফার্স্ট হয়? সেকেণ্ড, থার্ড, ফোর্থ...এরাও থাকে তো। তাইতো একটা দিন শুধুমাত্র আমার-আপনার গাড়ি বন্ধ। ‘কার ফ্রি ডে’।
মা দিবস, বাবা দিবস, পরিবার দিবস, ভালবাসা দিবস- হাঁফিয়ে উঠছি। আর কত দিবস পালন করব?
খাতা, পেন , ক্যালকুলেটর নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় হিসেবে বসুন। দেখুন, একটাই দিবস পালন করতে ইচ্ছে করবে - 'কার ফ্রি ডে'।
ভারতের মত গরিব দেশে আশি ভাগ লোকের কোনোরকম মোটরচালিত যান নেই। গাড়ি চাপা তাদের কাছে বিলাসিতা।তারা তো দূষণ ঘটায়নি। এখানে এসব হুজুগের দরকার আছে?
হ্যাঁ, আছে বৈকি। একদিন তাদের মত হেঁটে তাদের স্যালুট করার সুযোগ হারাবেন কেন? তাই তো বলছি, ২২ সেপ্টেম্বর ‘কার ফ্রি ডে’।
সেদিন আমি তো হাঁটছি, আপনি?
Biplab Das 14-09-2019
Photo courtesy: google.com

Wednesday, September 4, 2019

SUNDAY

S  U  N
D  A  Y
রবিবার হলেই হইহই করে সবাই রাজপথে নেমে পড়ে। চলে নাচগান, চলে মুকাভিনয়-নাটক-যোগব্যায়াম-জিমন্যাস্টিক। যতক্ষণ এসব চলে, সকাল সাতটা থেকে দুপুর দুটো- শহরের ১২০ কিলোমিটার রাজপথে একটিও মোটরগাড়ি চলে না। যারা হাঁটেন তারা তোঁ হাঁটবেনই। বাকিরা সাইকেলে চেপে ঘুরে বেড়ান। রাজপথের মসৃন বুকে বালক-বালিকারা কেউ কেউ স্কেট করতে করতে যায়।

‘সাইক্লোভ’। ১৯৭৪ সাল থেকে কলম্বিয়ার বোগোতা শহরের প্রতিটি রবিবার এভাবেই কেটে আসছে। প্রচলিত ব্যবস্থাকে তোয়াক্কা না করে একটু অন্যরকম, শুধুমাত্র একটু অন্যভাবে বাঁচতে এবং দূষণহীন কিছুটা সময় কাটানোর জন্য শহরের সাইকেলপ্রেমী যুবকেরা যে পরবের সূত্রপাত করেছিলেন সময়ের সাথে সাথে সেই পরবের ব্যাপ্তি বেড়েছে। মাত্র দু বছরের মাথায়, ১৯৭৬ সালেই এই উৎসবে সরকারি সিলমোহর পড়ে। শহরের বিশাল সংখ্যক জনগণ এতে সামিল হতে থাকেন। শহরবাসীরা সাইক্লোভকে এতটাই ভালোবেসে ফেলেছেন যে, ২০০৭ এ হঠাৎই কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতা সাইক্লোভ নিষিদ্ধ করে দেওয়া জন্য আইন আনতে চাইলে গণচাপে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। এখন তো শুধুমাত্র রবিবার নয়, অন্যান্য পাবলিক ছুটির দিনেও বোগোতার ওই সব রাস্তায় ধোঁয়াচালিত যান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সকাল হলেই রাস্তায় নেমে পড়েন শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ, সংখ্যায় প্রায় কুড়ি লাখ।

কলম্বিয়ার দেখাদেখি অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট-মেলবোর্ণ, আর্জেণ্টিনার রোজারিও, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস, কানাডার উইনিপেগ-ভ্যাঙ্কুভার-হ্যামিলটন-ওটাওয়া-টরেণ্টোতে ‘সাইক্লোভ’ শুরু করা হয়েছিল। কোথাও এখনো চলে, কোথাও পারা যায়নি।

পরীক্ষানিরীক্ষার শেষ নেই। ব্রাজিলে বড় কয়েকটি শহরে রবিবার কয়েকটি রাস্তা শুধুমাত্র পদযাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। চিলির সাণ্টিয়াগোতে প্রতি রবিবার সকালে ৩২ কিলোমিটার রাস্তা মোটরগাড়ি নিষিদ্ধ। বোগোতার মতই সেখানে সাইকেল, স্কেটিং নিয়ে মানুষ রস্তায় নেমে পড়েন।
কোস্টারিকা, গুয়াতেমালা, মেক্সিকো, পেরু, নিউজিল্যাণ্ড, ইকুয়েডর, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের মানুষ বোগোতার ‘সাইক্লোভ’ মডেল চালু করেছে। জনচাপ প্রশাসনকে নড়াতে পারে- সাইক্লোভ এর উদাহরণ।

ভারতে? হ্যাঁ। ‘রাহগিরি’ নাম দিয়ে গুরগাঁওতে ২০১৩ সালে একটিবার চেষ্টা করা হয়েছিল।

শুধুমাত্র দূষন থেকে বাঁচতে? নাকি ভোগবাদী সমাজ নিজের সংকট থেকে বেরোতে উপায় বের করার চেষ্টা করছে? নিরন্তর মারকাটারি লেগে থাকা অস্থির কলম্বিয়াবাসীরা এরকম আপদে নিয়মকে আপন করে মেনে নিলেন কেন?       

photo courtsey: google.com