Wednesday, September 4, 2019

কাঁংড়ি : মৃতদেহ নিয়ে বাস করি

কাঁংড়ি -  ৬ #মৃতদেহনিয়েবাসকরি#
জামশেদপুরে জলের টানাটানি। ডিমনার জলে ই বছ্যর ঢল নাই। মানগো বস্তির উপর দিকের ঘরগুঁল্যাতে তিন ঘরে একটা চান ঘর। জল উঠ্যে কুঁয়া থ্যাকে, শুকায়্যেঁ পাথর বেরাঁই গ্যেছে ই বছর। তাই কাংড়িও বৌ বাচ্চা লিয়্যেঁ আস্যে গ্যেছে চাইবাসা।

রোরো কথা রাখে। রোরো লদীও আবার মানুষও। বালি বালি গরম্যে রোরো-র গা ঘামে। তির তির করে জল নামে। সেই ঘামে মোটা খড় ফিটিং করে দিল্যেঁই  'কল'। এক ঘটি দু মিনিটে। ঘন্টায় পাঁচ বালতি। বউ কে কাঁংড়ি  বলল্য, "ল্যে, যত মন করে জল খা, হাত ধু, পা ধু, কাপড় কাচ,  চান কর।"
শ্বশুর ট বড় মুখ খারাপ করছ্যেঁ সকাল থ্যেকে। উ খালি বলছ্যে, "ব্যালেন্স রাখহ হে জামাই। শুধু মরাগুল্যাকে লিয়ে কদিন বাঁইচব্যে?"
শ্বশুর একবার তাড়ি খায়্যেঁ ভুল বকা শুরু করল্যে চুপানো দায়। বেশি বলত্যে গেলে দা লিয়্যেঁ ছ্যুটে আসে।
ইব্যারে বলছ্যেঁ, "শুধু মরাগুল্যা লিয়ে কি করে বাঁচঅ বাপ?"
কাঁংড়ি সাহস করে শুধায়, " কে মরা?  আমি মরা?  তুমার বিটি, তুমার লাতি মরা? উয়াদের লিয়্যেঁই ত আছি।"

 শ্বশুরের মেজাজ আবার টঙে, "মরা নাই? তর শহরে খাট টেবিল চেয়ার দরোজা সব ত ডেডবডি রে। জামা-কাপড়, বই, খাতা, পেনসিল -সবকটাই মরা। পাহাড় কাট্যে তর ঘরের দ্যায়াল-ছাদ-মেঝ্যা। মরা গাছ, মরা পাহাড়, মরা মাটি। এত পাপ, এত পাপ। তর মরার সময় মুখে জলটুকুও কেউ দিতে আসব্যেক নাই। আমাদের ইখ্যানে থাক। খাটিয়া আছ্যে বঠ্যে আবার চারট্যা ছাগল আছ্যে। একটা হুড়কা আছে ত, ভুলা টঁকেও পুষ্যেছি। মাটির দ্যায়াল যেমন আছে, একটা ডবা আর পাড় ভত্তি বনও ত আছে। দ্যাখ আমি ম্যারেছিঁ,  জীবনও দিছিঁ। ব্যালেন্স রাখ বাপ, ব্যালেন্স"।

স্কুলে বৃক্ষরোপণ।

স্কুলে বৃক্ষরোপণ।
অসহ্য গরম। মেঘলা আকাশ। জনা কুড়ি বাচ্চা। এক শিক্ষক। হইচই, খুনসুটি, ঠেলাঠেলি- তারই মাঝে কাজ।
একটা পাকুড় আর একটা শিরিষ পোঁতার পর দেবদারুটি পোঁতার তোড়জোড় চলছে।
টিপটিপ কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে কয়েকজন ছাত্র চোখ কুঁচকে আকাশের দিকে তাকায়।
এক ছাত্র: সার, জল পড়ছে। 
শিক্ষক: হুম। তোদের বলেছিলাম না, গাছের জন্যি বৃষ্টি হয়। দ্যাখ, গাছ লাগালি, আর অমনি বৃষ্টি শুরু হল। যখন যখন দেখবি বৃষ্টি পড়ছে, আসলে তখন তখন কেউ না কেউ কোথাও না কোথাও গাছ লাগাচ্ছে। বুঝলি ?
ছাত্ররা দু হাত দিয়ে মুখে বৃষ্টির ফোঁটা মাখছে।
ঠিক তখনই কেউ স্কুলের ছাদে উঠলে দেখতে পেত শুকনো দীঘির পিছনের মাঠ দিয়ে ধোঁয়া উঠিয়ে ধেয়ে আসছে বর্ষা ঋতু।

ফার্স্ট বয় ফার্স্ট গার্লরা প্রাথমিক শিক্ষক হতে চায় কি?

ফার্স্ট বয় ফার্স্ট গার্লরা প্রাথমিক শিক্ষক হতে চায় কি?
কে ভালো, কে খারাপ, কী ঘটে, কে ফাঁকিবাজ- সে নিয়ে তো হরদম লড়ে যাচ্ছি। এখন বরং আলোচনা করি কী হওয়া উচিত, সে নিয়ে। এই আলোচনাটি হাইপোথিটিক্যাল। এখানে পশ্চিমবঙ্গ-ভারত, কেন্দ্র-রাজ্য, চাকরি পাওয়া- না পাওয়া, সরকারি-বেসরকারি, আমি-তুমি, ব্যক্তিগত সেন্টিমেণ্টের কোনো জায়গা নেই।
ক্লাসের ভালো লেখাপড়ার ছেলেরা চলে যায় ইঞ্জিনিয়ারিং , ডাক্তারিতে। মনপসন্দ রোজগার সেখানে। যারা পড়ে থাকে জেনারেল কলেজে ভর্তি হয়। অল্প স্বল্প কলেজ পড়ে হয় সাধারন চাকুরে, একটু বেশিদিন ধরে ধৈর্য্য নিয়ে পড়লে হাইস্কুল শিক্ষক, আরও একটু বেশি সময় নিয়ে পড়লে অধ্যাপক। মোটামুটি এটিই সিনারিও। এখানে কোনো ব্যতিক্রমের প্রসঙ্গ টানছি না। কারন ব্যতিক্রম ব্যতিক্রমই। তা সে যতই উজ্জ্বল হোক বা অনুজ্জ্বল।
যাই হোক। এবার পড়ে রইল এমন একটা অংশ যারা এটার মধ্যে পড়ছে না, কিম্বা যারা নানারকম ডিগ্রির পরেও কোনও কারনবশত অন্যান্য পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন চাকরি খুঁজতে থাকে। কেউ ব্যবসা শুরু করে। এই সব খুঁজতে থাকা মানুষের একটা বড়ো অংশ প্রাথমিক শিক্ষকতায় যোগ দেয়। তাদের অনেকে হয়তো ইতিমধ্যে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করে ফেলেছে।
একজন প্রাথমিক শিক্ষক কত বেতন পান?
মোটামুটি বলা যায়, সরকারি বেতনভুক মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে নীচের দিকে। আর সমস্ত শিক্ষক কূলের মধ্যে সর্বনিম্ন।
তার কাজটি কী?
প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন পরিবেশ থেকে উঠে আসা, বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক গঠন সম্পন্ন শিশুদের জীবনের প্রথম দিকের পাঠদান। দুটি ভিন্ন বাড়ি থেকে আগত শিশুর মধ্যে আসমান জমিন স্বভাবগত পার্থক্য থাকে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষককে একই সাথে কয়েকঘণ্টার জন্য ছাত্রের খাওয়াদাওয়া, হাগু-মুতু, শরীর, কান্না-হাসি, মারামারি, মান-অভিমান - এসবের দ্বায়িত্ব নিতে হয়। যে দ্বায়িত্বের গুণগত মান শিশু ছাত্রের ভবিষ্যতের চরিত্র নির্ধারণ করে। ( ভারতের মত দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের আরও কিছু অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব নিতে হয়, সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না)
একটি রুমের মধ্যে একজন মাত্র প্রাথমিক শিক্ষকের কাছে অনেক সময় সব ক্লাসের ছাত্ররা সব বিষয়গুলি একসাথে পড়ে। সত্যি বলতে কী, এই কাজটিতে যথেষ্ট দক্ষতার প্রয়োজন। হয়তো একজন মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের চেয়েও বেশি। কারন বড় ছাত্রদের পড়ানোর ঝামেলা কম। দায়িত্ব অপেক্ষাকৃত কম। যিনি ইতিহাস বা জীববিজ্ঞান পড়াচ্ছেন, তিনি কাদের পাচ্ছেন? যারা ইতিমধ্যেই কয়েকটা ক্লাস টপকে এসেছে, পড়াশোনার সাথে অভ্যস্ত। আরও সুবিধে হল, সেই ছাত্ররা ইতিহাস ক্লাসে ইতিহাসের জন্যই মনোসংযোগ করতে পারে। কলেজের অধ্যাপকদের কাজটি আরও সহজ। তারা এমন একটি ছাত্রদলকে পায় যারা সেই নির্দিষ্ট বিষয়টির জন্য ইতিমধ্যেই জ্ঞানী বা জ্ঞান লাভ করতে উৎসাহী।
তাই ডিগ্রির ব্যাপারটা একটুক্ষণের জন্য সরিয়ে রাখলে এটাই দাঁড়াবে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন হওয়া উচিৎ সবচেয়ে বেশি। সমস্ত পেশার মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
মেধাবী প্রাথমিক শিক্ষক দরকার। অনেক বছর ধরে অনেক কিছু পড়াশোনা করা বিশাল কিছু জ্ঞানীগুণী না হলেও চলবে। সত্যি বলতে কী, কোনো একটি ব্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল ছাত্রদের প্রাথমিক শিক্ষাদানে আকর্ষিত করা দরকার। দশ ক্লাস বা বারো ক্লাসের পর একটা জবরদস্ত এন্ট্রান্স। এন্ট্রান্সে পেলে বছর পাঁচের ট্রেনিং। ট্রেনিং শেষে সর্বোচ্চ বেতনের নিশ্চিত চাকরি- 'প্রাথমিক শিক্ষক'। সব দেশে, সব প্রদেশে, সব যুগেই এটি হওয়া উচিৎ।
(এ সিস্টেমে চললে আরও একটা মজাদার ব্যাপার ঘটার সম্ভাবনা আছে। তখন কতকগুলো ঘরকুনো, স্বার্থপর, ছায়া প্রকাশণীর মডেল ক্লাসে ফার্স্ট নাও হতে পারে। পুরো হিসেব উল্টে যেতে পারে।)
বিঃদ্রঃ আমি প্রাথমিক শিক্ষক নই। আমার চোদ্দপুরুষের কেউ ছিলেননা। আমি আবার একদমই বেশি ডিগ্রিধারী নই। এই রচনাটি আজ থেকে দশ বছর আগে আমার অশিক্ষক বন্ধুদের সাথে আড্ডার নির্যাস।
Biplab Das
26-07-19

রামতনু লাহিড়ি ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ

১৮২৫ থেকে ১৮৫০। মাত্র ২৫ বছরের একটা উল্লম্ব লাফ।
খুব সহজে এর একটা সূচনাবিন্দু ধরা যেতে পারে। ১৮১৫। যে বছরে রামমোহন রায় স্থায়িভাবে কলকাতায় বাস করতে শুরু করেন এবং তাঁর জীবনের আসল কাজগুলি গুরুত্ব সহকারে হাত দেন। বলা যেতে পারে তিনিই এই লাফের অবিসংবাদী ‘রান-আপ’।
একজন ইউরোপিয়ান শিক্ষক বাঙালীদের মনে করাচ্ছিলেন তোমরা তো একসময় তর্কশাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলে। তিনি তরুণ হওয়ার আগেই লিখে ফেলেছিলেন ‘ফকির ওফ ঝুঙ্গিরা’। তাঁর ক্লাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয়ে তর্ক চলত। তাঁকে নিয়ে ভবিষ্যতের বাঙালি যতই বিতর্ক করুক না কেন তিনি যদি হিন্দু কলেজের চুম্বক না হতেন হয়ত আমরা আজ অনেক কিছুই দেখতে পেতাম না, এখনও আর্যাবর্ত বা মুঘলাই ঘুর্ণি তে পাক খেতাম। তিনি হেনরি ভিভিয়ান লুইস ডিরোজিও। ভুল। ইয়ংবেঙ্গল হয়তো অনেক ভুল করেছিল। কিন্তু ভুল যে অনেক সময় ঠিকের চেয়েও মূল্যবান। প্রমান গত শতকের সাতের দশক।
ভাবা যায়, টোল পণ্ডিতির যুগে দুটো পত্রিকা বেরোচ্ছে ‘জ্ঞানান্বেষণ’ এবং ‘এনক্যোয়ারার’।
১৮৩৩ এ নতুন চাটার্ড অ্যাক্টে ভারতীয়দের জন্য উচ্চপদস্থ সরকারি চাকরির বাজার খুলে গেলে ডিরোজিয়ানরা আরও মারাত্মক ভাবে মিশে গেলেন সমাজে, সমাজের ভালোমন্দে। হয় মুভমেণ্টে, নয় রিফর্মে। যার ফলে ১৮৪২ থেকে বেরোতে শুরু হল ‘বেঙ্গলি স্পেক্টেটর’। হ্যাঁ, বাঙালি যা ভাবত, ঘোমটা আর পাগড়িতে আটকে থাকা ভারত তখনো সেসব ভাবেনি।
বাঙালি ডিমস্থিনিস রামগোপাল ঘোষ। ব্রিটিশদেরও স্থানীয় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার সমর্থনে লিখে ফেললেন ‘রিমার্কস অন দ্য ব্ল্যাক অ্যাক্টস’। তিনি বেচু চাটুজ্জ্যে স্ট্রিটে ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিলে চেতলা বাজার থেকে লোক ছুটে আসত তাকে দেখতে।
প্যারীচাঁদ মিত্র, রাধানাথ শিকদার- ডিরোজিওর দুই প্রিয় শিষ্য অনেকগুলি বুদুবুদকে এক করে গড়ে তুললেন ‘ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’। তাদেরই ‘মাসিক পত্রিকা’য় বাংলা গদ্য সংস্কৃত-মুক্ত হল। তারা মাপছিলেন। বাঙ্গালির নেওয়ার ক্ষমতা মাপছিলেন। বাঙ্গালিও নিতে নিতে পরপর নক্ষত্র প্রসব করতে লাগল। প্রথম দিকে সাংস্কৃতিক, পরে পরে রাজনৈতিক নক্ষত্র। সশব্দে বা নিঃশব্দে তারা জ্বলতেন।
তারাচাঁদ চক্রবর্তী। যাকে আমরা প্রায় কেউ চিনব না। বইএর পাতার কোনো এক লাইনে যিনি দুটো কমার মধ্যে রয়ে যাবেন, তিনি ইয়ংবেঙ্গলের নিঃশব্দ নেতা।
দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়? সবাই তো কুৎসা নিতে পারেন না। তিনিও পারেননি। ঐ বাংলা তাঁকে ঝেঁটিয়ে বিদেয় করেছিল উত্তরপ্রদেশে। কিম্বা সেই অনামী ডিরোজিয়ান, যিনি সন্নাসী হয়ে কাথিয়াওয়াড় চলে গেলেন, স্থানীয় রাজবিদ্রোহে অংশ নিলেন। তাকেও ঐ বাংলা মেনে নেয়নি।
অনেকেই পালিয়ে যাননি, শুধু লড়ে গেছেন, সমালোচিত হতে হতে। আর এঁরা সবাই, এঁদের সাথে রামতনু লাহিড়ি, হরচন্দ্র ঘোষ, শিবচন্দ্র দেব, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বা অক্ষয়কুমার দত্তরা যে অভাবনয়ীয় র‍্যাডিকেল রাজনীতির বীজ বুনে ফেলেছিলেন আজ তাকে তর্কযুদ্ধে পরাস্ত করে দিতে পারি বটে কিন্তু তার অনুভব অস্বীকার করতে পারিনা।
এদের নিয়েই বহু বছর আগে, ১৯০৩ সালে শিবনাথ শাস্ত্রী লিখে গেছেন বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘রামতনু লাহিড়ি ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ’।
বাঙালিকে জানতে যা পড়তেই হবে।

আমাজন ও ভারতের গল্প

যেমন করে গর্ত থেকে পিঁপড়ে বেরোয় বা মৌচাকে ঢিল পড়লে মৌমাছি, সেরকমই জঙ্গল থেকে পিল পিল করে লোক বেরোচ্ছে। আধা উলঙ্গ জংলি। ছেলে কোলে নিয়ে মায়েরা উর্ধশ্বাসে দৌড়োচ্ছে বড় রাস্তার দিকে। হাঁফিয়ে পড়ার জো নেই। পিছনে ফেলে এসেছে আদিম বাড়িঘর-পাথরের পাত্র-আঁশ ছাড়ানোর ঝিনুক।
হারু মিস্ত্রি। শুধু নামে নয়। পেশাতেও। ঘর ছাওয়ার কাজ করে সে।
দাদু খুব নাম-ডাকওয়ালা ছিল। বসন্ত-গ্রীষ্মে তিনমাস ঘরে ফেরার সময় পেতনা। কাছাকাছি কোথাও হলে হারুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেত।
বাবার সাথে হারু রোজই কাজে যেত। বাবা দশ কী কুড়ি ফুট উপরে উঠে কাজ করত। উঠোনে আঁটি বাধতে বাঁধতে হারু বই পড়ত। সামনে তখন মাধ্যমিক। হারুর পছন্দের বিষয় আবার ভুগোল। বাবা ওপর থেকে প্রায়ই চ্যাঁচাত, ‘দ্যাখত হারু, আড়ির কাঠটা সোজা হয়েছে কিনা’। বাবা বলার সাথে সাথে হারুকে ঘরের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াতে হত। ওপরের দিকে তাকিয়ে বলত, ‘ঠিক আছে’। ওদিকে উঠোনে ফেলে আসা বইয়ের পাতাগুলি হাওয়ায় উড়তে উড়তে একটা ওল্টানো ‘ব’ এর মানচিত্রে আটকে যেত। দক্ষিন আমেরিকা। বিপিন স্যার একদিন একটা ঢাউস রঙ্গীন বই দেখিয়েছে, ‘ব’ এর পেটটা পুরো সবুজ।
ওপর থেকে বাবা মাঝে মাঝেই ঝাঁঝিয়ে উঠত, ‘এগুলো খড় না বাল। চাষ করছে সব। ইংরিজিতে ধানের নাম। বলি, শুধু ভাত খেলেই হবে? গরুকে খেতে দিতি হবে না। ঘর ছাইতি হবে না? খড় কই, খড়? ভালো করে পড় বাপ। এ কাজে আর জুত নাই। সব শেষ। তোকে কেন জন্ম দিতে গেলাম। সন্তান আনা পাপ। আর কত কী দেখতি হবে কে জানে’। দূর দিগন্তের দিকে তাকিয়ে বাবা কথাগুলো বলত। কে জানে, উঁচুতে উঠে থাকত বলে বাবা হয়ত আরও বেশি কিছু দেখতে পেত।
জঙ্গলের মধ্যেও ছোট ছোট দেশ থাকে। নদী দিয়ে ঘেরা থাকে সেসব দেশের সীমানা। পুরুস, রিও-পৌনি, কুরুদরি- এসব নদীর নাম। নদীর মন মর্জিতে সীমানা পালটে যায় বারে বারে। সব সীমানা পেরিয়ে সব দেশগুলো এখন অন্য এক পৃথিবীর রাজপথে দৌড়ে যাচ্ছে। দেশে পড়ে আছে অসংখ্য ম্যাকাউ, টুকান, ক্যাপিবারা, জাগুয়ার।
দিগন্ত দেখতে দেখতে একদিন বাবা ওপর থেকে ধপ করে পড়ে গেল। নিচে আলগোছে পড়ে থাকা ভাঙ্গা জোয়ালের একটা অংশ ভস করে গেঁথে গেল পেটে। বাবার আধমরা শরীরটা আর নাড়িভুঁড়ি নিয়ে হারু রিকশাভ্যানে করে গিয়েছিল হাসপাতালে। জীবনের দীর্ঘতম যাত্রা।
বহুবার, বহুবার আগুন নিভিয়েছে সে। গ্রামে কারোর বাড়িতে আগুন লাগলে হারু ছুটে যায়, চালায় ওঠে, ভেঙ্গে দেয় খড়ের ছাদ। দাউ দাউ আগুনের মধ্যে বাড়ির নাড়িভুঁড়ি বের করতে করতে বারবার বাবার কথা মনে পড়ে।
এখন আর ঘর ছাওয়ার কাজ সেরকম আসেনা। রাজমিস্ত্রির সাথে মশলা বইতে মন চায় না। কোনো কোনো দিন চাল মিলে বস্তা বওয়ার কাজ করে। দুটো বাচ্চা, একটা বউ।
বেরোনোর পর এক এক করে গুনলে দেখা যেত প্রায় দশ লক্ষ লোক জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসেছে। পিছনে দাউ দাউ করে জ্বলছে একটা সবুজ রঙ। আমাজন।
হারু চালমিলের টিভিতে বসে বসে কদিন ধরেই আগুন দেখছে, দেখছে বিপিন স্যারের বইতে আগুন লেগেছে। রঙ্গীন মোটা মোটা পাতাগুলি গলে গলে পড়ে যাচ্ছে। বাবা কি ওপরে বসে বসে এসবই দেখতে পেত?
আজ ভোরে হারু বেরিয়েছে। আকাশের তারা দেখে দেখে পশ্চিম বরাবর হাঁটছে। বউটাকে বিছানায় চিরতরে শুইয়ে দিয়ে এসেছে। ঘুমন্ত বাচ্চাদুটো বাড়ির পিছনের ডোবার পাড়ে ঘাসের তিন হাত নিচে আরামে ঘুমোচ্ছে। আরও আরও অনেকটা যেতে হবে তাকে। কয়েক হাজার মাইল। যত পশ্চিমে যায়, পোড়া পোড়া গন্ধ নাকে ঘনীভূত হয়।
Biplab Das
24-08-2019

Wednesday, January 24, 2018

Sorry Uncle

A short movie for children.

Sorry Uncle

Youtube Link : https://youtuhttps://youtu.be/a6vffdpR9zo

Dear parents, Do not snatch their childhood...Let them express in their own way.

Cast: Barnalipi, Rakesur Rahman, Manshi Mitra.
Music & Editing:  Nirmalya Dutta.
Story & Direction: Biplab Das

Subscribe the YouTube channel : RATIONALIST. COM

Monday, October 23, 2017

দুটি বাদামী দাঁত পাল্টে দিতে চলেছে মানুষের ইতিহাস

দুটি বাদামী দাঁত।
মানুষের ইতিহাসকে এক লহমায় বদলে দিতে চলেছে দুটি বাদামি দাঁত। এর ফলে হয়তো বিবর্তনের ইতিহাসকেই নতুন করে লিখতে হতে পারে। জার্মানির এপেলসিম শহরের কাছে রাইন উপত্যকায় নুড়ি পাথরের মধ্যে পাওয়া দুটি দাঁতের কার্বন ডেটিং করে এমন‌ই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। গত ২০ অক্টোবর, শুক্রবার রিসার্চগেট পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণাপত্রটি এখন বিজ্ঞানীমহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুট শহরের কাছে এপেলসিম শহরটি এমনিতেই প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে স্বর্গরাজ্য। সারা বছর বহু দেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতত্ত্ববিদেরা এপেলসিমের আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়ান। এর আগে সেখান থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেরকম‌ই কিছু গবেষণার .......

Incepnow.com এ প্রকাশিত আমার এই লেখাটির বাকি অংশটুকু পড়তে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে-

http://incepnow.com/history-of-human-evolution-may-change/