Showing posts with label পশ্চিমবংগ. Show all posts
Showing posts with label পশ্চিমবংগ. Show all posts

Wednesday, September 4, 2019

এক দুপুর খিদে

মহিলা হাত বাড়িয়ে দেখালো,  লম্বা,  সরু,  এক-মোচড় দেওয়া লেড়ো বিস্কুটের দিকে। দোকানি একবার প্লাটফর্মে বসে থাকা লোকটি আরেকবার মহিলার মুখের দিকে তাকিয়ে তিনটে বিস্কুট বের করল। মহিলার কোলে একটা ধেড়ে বাচ্চা। সে দুমড়ে মুচড়ে শরীরটাকে স্থির করতে চেষ্টা করছে,  লেড়ো বিস্কুটের মতো।

মহিলার পায়ের কাছে প্লাটফর্মে বসে থাকা লোকটির কোনো নেশা নেই,  দাঁত দেখেই বোঝা যায়,  ঝকঝকে,  দাঁতে করে কামড়ে মুখ ভর্তি লেড়োর পেষ্ট বানিয়ে অনেকক্ষণ ধরে তারিয়ে তারিয়ে এ গাল আর ও গাল করছে। ছেলেটিকে কোল থেকে নামাতেই বোঝা যায়,  স্পেশাল চাইল্ড। প্রথমেই শুয়ে পড়েছে নোংরা প্লাটফর্মে। তারপর নখ দিয়ে আঁচড় কেটে কেটে কী যেন আঁকতে যায়।  বাঁ হাতের বিস্কুটটা মুখে পুরতে পারছে না। মা বোঝে।

মা বোঝে এক দুপুর খিদে নিয়ে বাচ্চার কী হয়। নিজের বিস্কুট মুখে চালান করে বাচ্চাকে তার বিস্কুটটি একটু করে ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেয়। মহিলার হাত যখন কাজ করে,  চোখ তখন ব্যস্ত উল্টো দিকের প্লাটফর্মে, হলুদ রঙের খোঁজে। হঠাৎ, এক অদ্ভুত গোঙানি শুনে সচকিত মহিলা দোকানির দিকে তাকিয়ে বলে, "একটু চা দিবেন?"

চা দিতে গিয়ে দোকানি বোঝে লোকটি অন্ধ। স্মৃতিতে স্বাদ আছে, রঙ নেই। ওদিকে ধেড়েটি ফের কোলে উঠে মায়ের  ব্লাউজের হুক ধরে টানাটানি শুরু করেছে। মহিলার একটা হাত ছেলেকে আটকাতে ব্যস্ত, মহিলার শরীর ধরে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াচ্ছে অন্ধ ব্যক্তি,  মহিলার চোখে ট্রেন মিস করার আশঙ্কা, এসময়ে দোকানি বলে উঠলো, “ তিন দুয়ে ছয় আর চার মিলে দশ টাকা। “

পয়সা?  সে তো সারের বস্তা কাটা থলির ভিতরে।  ওদিকে একটা ট্রেন ঢুকছে।  গেটের কাছে বাবুটি বলে দিয়েছিল  একটু পরেই ওদিকে দিয়ে আসবে হলুদ ট্রেন।  এটা হলুদ তো?  সে অন্ধ নয়,  তাই রক্ষে।

একটা থালা-বাটি ,  দুটো ন্যাকড়া,  ছোটো গামছা একটি,  একটা দাঁতন,  দুটো প্রেসক্রিপশন,  একটি শিশি,  ওষুধের পাতা বেরোনোর পর বেরোলো একটি প্যারাশুট নারকেল তেলের বড়ো মুখওয়ালা কৌটো। সেখান থেকে দশ টাকার নোট বের করে ফের সবগুলো থলিতে ঢোকাতে ঢোকাতে ছেলেটি ওর ব্লাউজের ফাঁক দিয়ে বাম স্তনটি বের করে ফেলেছে। পিছনে পিঠ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে লোকটি। একটি উন্মুক্ত স্তন নিয়ে দোকানির টাকা চুকিয়ে থলি হাতে মহিলা জোর পায়ে হাঁটতে থাকে হলুদ রঙের ট্রেনের দিকে। কোলে ছেলে,  পিঠে হাত দিয়ে তাকে ছুঁয়ে ছুটছে লোকটি, তার বর নিশ্চয়। মুক্ত স্তন, একদম শুকনো, ভারহীন, পাখির পালকের মতো।

স্তন জোরে জোরে নড়ছে,  ট্রেনটিও একটু নড়ে উঠলো যেন।  স্তন মুখে পোরার সুযোগ পাচ্ছে না,  বাচ্চাটির গলা ফাটা চিৎকার ট্রেনের হুইশলকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে। এখনও অনেকটা বাকি। তিনজন তিনজনকে স্পর্শ করে ছুটছে একটা বৃহৎ শরীরের মতো। যে শরীরে তিনটে মুখ, তিনটে পেট, তিনটে পায়ু, ছটা পা,  দুটো চোখ,  একটা মাথা, দুটো হাত......

Biplab Das
18-06-19

আমাজন ও ভারতের গল্প

যেমন করে গর্ত থেকে পিঁপড়ে বেরোয় বা মৌচাকে ঢিল পড়লে মৌমাছি, সেরকমই জঙ্গল থেকে পিল পিল করে লোক বেরোচ্ছে। আধা উলঙ্গ জংলি। ছেলে কোলে নিয়ে মায়েরা উর্ধশ্বাসে দৌড়োচ্ছে বড় রাস্তার দিকে। হাঁফিয়ে পড়ার জো নেই। পিছনে ফেলে এসেছে আদিম বাড়িঘর-পাথরের পাত্র-আঁশ ছাড়ানোর ঝিনুক।
হারু মিস্ত্রি। শুধু নামে নয়। পেশাতেও। ঘর ছাওয়ার কাজ করে সে।
দাদু খুব নাম-ডাকওয়ালা ছিল। বসন্ত-গ্রীষ্মে তিনমাস ঘরে ফেরার সময় পেতনা। কাছাকাছি কোথাও হলে হারুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেত।
বাবার সাথে হারু রোজই কাজে যেত। বাবা দশ কী কুড়ি ফুট উপরে উঠে কাজ করত। উঠোনে আঁটি বাধতে বাঁধতে হারু বই পড়ত। সামনে তখন মাধ্যমিক। হারুর পছন্দের বিষয় আবার ভুগোল। বাবা ওপর থেকে প্রায়ই চ্যাঁচাত, ‘দ্যাখত হারু, আড়ির কাঠটা সোজা হয়েছে কিনা’। বাবা বলার সাথে সাথে হারুকে ঘরের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াতে হত। ওপরের দিকে তাকিয়ে বলত, ‘ঠিক আছে’। ওদিকে উঠোনে ফেলে আসা বইয়ের পাতাগুলি হাওয়ায় উড়তে উড়তে একটা ওল্টানো ‘ব’ এর মানচিত্রে আটকে যেত। দক্ষিন আমেরিকা। বিপিন স্যার একদিন একটা ঢাউস রঙ্গীন বই দেখিয়েছে, ‘ব’ এর পেটটা পুরো সবুজ।
ওপর থেকে বাবা মাঝে মাঝেই ঝাঁঝিয়ে উঠত, ‘এগুলো খড় না বাল। চাষ করছে সব। ইংরিজিতে ধানের নাম। বলি, শুধু ভাত খেলেই হবে? গরুকে খেতে দিতি হবে না। ঘর ছাইতি হবে না? খড় কই, খড়? ভালো করে পড় বাপ। এ কাজে আর জুত নাই। সব শেষ। তোকে কেন জন্ম দিতে গেলাম। সন্তান আনা পাপ। আর কত কী দেখতি হবে কে জানে’। দূর দিগন্তের দিকে তাকিয়ে বাবা কথাগুলো বলত। কে জানে, উঁচুতে উঠে থাকত বলে বাবা হয়ত আরও বেশি কিছু দেখতে পেত।
জঙ্গলের মধ্যেও ছোট ছোট দেশ থাকে। নদী দিয়ে ঘেরা থাকে সেসব দেশের সীমানা। পুরুস, রিও-পৌনি, কুরুদরি- এসব নদীর নাম। নদীর মন মর্জিতে সীমানা পালটে যায় বারে বারে। সব সীমানা পেরিয়ে সব দেশগুলো এখন অন্য এক পৃথিবীর রাজপথে দৌড়ে যাচ্ছে। দেশে পড়ে আছে অসংখ্য ম্যাকাউ, টুকান, ক্যাপিবারা, জাগুয়ার।
দিগন্ত দেখতে দেখতে একদিন বাবা ওপর থেকে ধপ করে পড়ে গেল। নিচে আলগোছে পড়ে থাকা ভাঙ্গা জোয়ালের একটা অংশ ভস করে গেঁথে গেল পেটে। বাবার আধমরা শরীরটা আর নাড়িভুঁড়ি নিয়ে হারু রিকশাভ্যানে করে গিয়েছিল হাসপাতালে। জীবনের দীর্ঘতম যাত্রা।
বহুবার, বহুবার আগুন নিভিয়েছে সে। গ্রামে কারোর বাড়িতে আগুন লাগলে হারু ছুটে যায়, চালায় ওঠে, ভেঙ্গে দেয় খড়ের ছাদ। দাউ দাউ আগুনের মধ্যে বাড়ির নাড়িভুঁড়ি বের করতে করতে বারবার বাবার কথা মনে পড়ে।
এখন আর ঘর ছাওয়ার কাজ সেরকম আসেনা। রাজমিস্ত্রির সাথে মশলা বইতে মন চায় না। কোনো কোনো দিন চাল মিলে বস্তা বওয়ার কাজ করে। দুটো বাচ্চা, একটা বউ।
বেরোনোর পর এক এক করে গুনলে দেখা যেত প্রায় দশ লক্ষ লোক জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসেছে। পিছনে দাউ দাউ করে জ্বলছে একটা সবুজ রঙ। আমাজন।
হারু চালমিলের টিভিতে বসে বসে কদিন ধরেই আগুন দেখছে, দেখছে বিপিন স্যারের বইতে আগুন লেগেছে। রঙ্গীন মোটা মোটা পাতাগুলি গলে গলে পড়ে যাচ্ছে। বাবা কি ওপরে বসে বসে এসবই দেখতে পেত?
আজ ভোরে হারু বেরিয়েছে। আকাশের তারা দেখে দেখে পশ্চিম বরাবর হাঁটছে। বউটাকে বিছানায় চিরতরে শুইয়ে দিয়ে এসেছে। ঘুমন্ত বাচ্চাদুটো বাড়ির পিছনের ডোবার পাড়ে ঘাসের তিন হাত নিচে আরামে ঘুমোচ্ছে। আরও আরও অনেকটা যেতে হবে তাকে। কয়েক হাজার মাইল। যত পশ্চিমে যায়, পোড়া পোড়া গন্ধ নাকে ঘনীভূত হয়।
Biplab Das
24-08-2019

Tuesday, December 2, 2014

science awarness programme in a school of a remote village.



 
its a science awarness programme in Mankanali High School , a remote village school of District Bankura, WestBengal, India. The Programme performed by Bharatiya Bigyan O yuktibadi Samiti (SCIENCE AND RATIONALISTS' ASSOCIATION OF INDIA) on date 13 sept. 2014.

Monday, September 30, 2013



To
Sri Subrata mukherjee
Hon. Minister, West Bengal




We are challenging you. Either you take our challenge or stop this nonsence.



Monday, January 23, 2012

জারোয়া নাচ এবং ভারত সরকার


আন্দামান নিকোবর দীপপুঞ্জের গভীর অরণ্যে কিছু পর্যটক খাবারের বিনিময়ে নগ্ন জারোয়াদের নাচ দেখছে এবং এসবের আয়োজন করেছে কিছু পর্যটন সংস্থা, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও সেনা- এরকমই অভিযোগে উত্তাল আন্দামান প্রশাসন এবং মিডিয়াকুল। মিডিয়া এও বলছে আন্দামানে এই হিউম্যান সাফারি নাকি বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। এধরনের অভিযোগে যেখানে কেন্দ্রিয় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হয়া উচিৎ, সেখানে আন্দামান প্রশাসন প্রাথমিক ভাবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিতে চাইছে। এমনকি, যে প্রথম এই নাচের ভিডিও ফুটেজটি তুলেছিল এবং মিডিয়াকে দিয়েছিল তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাইছে। এটা নিজেদের দোষ ঢাকতে অন্যদিকে পাবলিকের মন্যগ ঘোরানোর চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।

     নগ্ন হিংস্র জারোয়ারা আজ কমতে কমতে মাত্র ২৪০ জনে এসে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা টুকুও কতদিন থাকবে বলা যায়না। দীর্ঘ বছর ধরে মনোবিদ, সমাজবিদদের দ্বারা ওদের পাল্টানোর চেষ্টা করলে আজ হয়তো সমাজের মূলস্রোতে আনা যেত। তা না করে ওদের নাচ দেখিয়ে বিদেশি পর্যটকদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা? ছি।

Monday, September 12, 2011

THE BENGALI FILM 'CHATRAK' AND PAOLI-ANUBRATA'S NACKED BED SCENE

         ‘ছত্রাক সিনেমায় সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় পাওলি দামের বিছানা দৃশ্যে অভিনয় করার ঘটনায় এপার-ওপার দুই বাংলারই তামাম মিডিয়া গোষ্ঠী উত্তেজনায় ফুটছে। আনন্দবাজার পত্রিকা প্রথম পাতাতেীই নিউজটি কভার করল তো চ্যানেল টেন শুরু করল রতিকলার ফুটেজ দেখাতে। এ পত্রিকা বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়। বাচ্চা থেকে বুড়ো-অনেকেই ইন্টারনেটে ইউটিউব খুলছে বাংলা সিনেমার নায়িকার পর্নো সিন দেখতে।

      ১১ সেপ্টেম্বর, রবিবার, বাঁকুড়ায় যুক্তিবাদী সমিতির সাপ্তাহিক স্টাডিক্লাশের প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল সিনেমা ছত্রাক। ঘটনাচক্রে এই দিনটি হিউম্যানিষ্টস অ্যাসোসিয়েশনের দশম প্রতিষ্ঠা দিবসও। শ্রীলঙ্কার পরিচালক বিমুক্কি জয়াসুন্দরের এই দ্বিভাষিক ছবিটিতে নায়িকার ভুমিকায় অভিনয় করেছেন পাওলি দাম। বিতর্ক শুরু হয়েছে ছবির একটি দৃশ্য নিয়ে যেখানে দেখা যায় যে, নায়িকা তার সহ-অভিনেতা অনুব্রতর সাথে ওরাল সেক্সে মত্ত। প্রায় চার মিনিট দীর্ঘ এই ক্লোজ আপ দৃশ্যটিতে পাওলি-অনুব্রত সম্পূর্ণ নগ্ন, একটুও সুতো নেই। টলিউড তো দূর অস্ত, বলিউডও সামনের কয়েকবছরে এরকম সিনে পৌঁছাতে পারবেনা হলফ করে বলা যায়।

            আ্লোচনা জমে উঠেছিল ডাঃ অনিন্দ্য রায়ের অনবদ্য বিশ্লেষন, কবি সুদীপ চট্ট্যোপাধ্যায়ের তথ্যনিষ্ঠ বক্তব্য, এবং সমাজসেবী ভাস্কর সেনের অসাধারণ কনক্লুশনে। সেখানে ছিলেন ঝাড়খন্ড স্টুডেন্ট ফেডারেশনের মুখপাত্র অমরেন্দ্র টুডু, ওই সংগঠনেরই সাগিনা মাহাত, এপিডিআর কর্মী অনিকেত রায়, সমাজসেবী বাপ্পাদিত্য হাজরা, যুক্তিবাদী সমিতির সুধীর হাঁসদা, আমি সহ আরো অনেকে। আলোচনার প্রথম পর্বে আলোচকরা এক বিষয়ে সিদ্ধান্তে এলেন যে, ঐ সিনেমায় পাওলির ওরাল সেক্সের দৃশ্যটি কতটা ন্যাচারাল বা কতটা ভালগার, চিত্রনাট্যের পরিপ্রেক্ষিতে দৃশ্যটির অবতারনার প্রয়োজন ছিল কি ছিল না, ঘোমটার আড়ালে থাকা বাঙ্গালী রমণীকূলের রক্ষণশীলতায় জোর ধাক্কা দিল কি দিল না-এসব নিয়ে আলোচনা করা বৃথা। কেননা কোন্ দৃশ্যকে আমরা ভালগার বলব সেটা আপেক্ষিক এবং ম্যান টু ম্যান ভ্যারি করে। আর সব ছবির পরিচালকই বলবে এই দৃশ্যটির শৈল্পিক প্রয়োজনীয়তা আছে, তার উদ্দেশ্য যতই না বাজারি হোক। বরং আমাদের আলোচনা হতে পারে এই সিনামাটি নিয়ে মিডিয়া গোষ্ঠীর ভয়ঙ্কর সব মতামত নিয়ে। এ টু জেড সব পত্রিকা্র এক সূর-বাংলা সিনেমা এতদিনে সাবালক হল। পাওলির-অনুব্রতর নগ্নতার দৃশ্যটিকে সবাই বাংলা চলচ্চিত্রের ম্যাদামারা সফরের অন্যতম বাঁক বলে মনে করছে। তাদের ভাবখানা এমন, যেন কয়েকটি থ্রি-এক্স মার্কা পর্নো দৃশ্য থাকলেই সিনেমা হয়ে যায় সাবালক আর তার নায়ক নায়িকারা সাহসী। পাওলি পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যদি বিছানায় যৌনতার সময় আমাদের গায়ে কাপড় না থাকে তবে পর্দায় সেই চরিত্রে অভিনয়ের সময় গায়ে কাপড় রাখতে হবে কেন?

       সুদীপ চট্টোপাধ্যায় তুললেন স্তানিস্কোভস্কি থেকে ব্রেখটের কথা। উঠে এল শিল্পের ক্রমবিকাশের প্রসঙ্গ। আর্টস ফর আর্টসসেক এর ধারনা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কি ভাবে বদলে যায় আর্টস ফর হিউম্যানসেকে। দেশে দেশে কমিউনিজমের হাওয়া এক্ষেত্রে সদর্থক ভুমিকা নিয়েছিল। অনিন্দ্য রায় বোঝালেন-শিল্প কি? ঘটনাকে অভিনয়ের মাধ্যমে রিয়েলিষ্টিক করে তোলা। গল্প, চিত্রনাট্য,অভিনয়- সবে মিলে দর্শকের সামনে এমন এক ইলিউশ্যন তৈরি হবে যাতে সে সত্যি বলে মনে করে। কোনো খুনের দৃশ্যকে আরও ভালো ফুটিয়ে তোলার জন্য কি সত্যি সত্যিই খুন করতে হয়? শোলে সিনেমায় গব্বর সিংযের এক থাপ্পড়ে মাছিটাকে মেরে ফেলা কি বলে দেয় না- সে কী চাইছে? একটি বিখ্যাত ইংরেজি সিনেমার একটি দৃশ্য- যেখানে একটি প্যারাম্বুলেটরে বসে থাকা শিশু ঢালু রাস্তায় গড়াতে গড়াতে যাচ্ছে, আর শিশুর বাবা পিছুপিছু দৌড়চ্ছেন বাঁচাতে। হঠাৎ দেখা গেল উলটো দিক থেকে একটি ট্রাক আসছে। না। শিল্পের প্রয়োজন মেটাতে কোনো সংঘর্ষের দৃশ্য দেখানো হয় নি। পরের সিনে সাদা স্ক্রিন। একটু একটু করে ভরে গেল রক্তিম আভায়। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি তাহাদের কথায় মিঠুনকে দেখা গেছে মাঠে পায়খানা সারতে। গল্পের প্রয়োজনে। কিন্তু চিত্রনাট্যের বা শিল্পের প্রয়োজনে তাকে সম্পুর্ণ উলংগ অবস্থায় দু পা ফাঁক করে সেই কাজটি করতে দেখা যায়নি। পারমিতার একদিনে অথর্ব শ্বাশুড়ীর ভুমিকায় অনবদ্য অপর্ণা সেনের প্রস্রাব দৃশ্যটিও কি একবারও কারোর মনে হয়েছে ভাল অভিনয় হয়নি? সেখানেও কিন্তু ওই ভাল অভিনয় করার জন্য তাকে উন্মুক্ত হতে হয়নি। কিছুদিন আগে জাপানীজ ওয়াইফ সিনেমায় নায়ক রাহুল বোসের স্ব-মৈথুন দৃশ্যের কথা ভাবুন। শিল্পের প্রয়োজন দেখাতে গিয়ে রাহুলকে সম্পূর্ন নগ্ন করা হয়নি। তাতেই দর্শক যা বোঝার বুঝে নিয়েছে। এক দশক আগের হিন্দি সিনেমা কেয়া কহনা তে নায়িকা প্রীতি জিন্টা কুমারী মা, কি অসাধারন সাহসী মহিলার গল্প।

           গোয়ালতোড়ের বাসিন্দা অমরেন্দ্রর চাছাঁছোলা বক্তব্য, কম পোশাক পরা যদি সাহসিকতার পরিচয় হয় তাহলে আমাদের দেশের গ্রামের নারীরা সবাই খুব সাহসী বলতে হবে, কারণ তাদের কারও উর্ধাঙ্গে পোশাকের বাহুল্য থাকেনা বললেই চলে। অনিকেত রেখা কালিন্দী, আফসানা খাতুন, পদ্মা রুইদাসের প্রসঙ্গ টেনে বললেন এরা কেউ নিজের বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙ্গেছে, কেউ বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে গেছে বাল্যবিবাহের প্রতিবাদে। একমাস আগেই মানবাজারের মায়া বাউরি এলাকার চোলাই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমাছিলেন, তাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং শোষনের বিরুদ্ধে যে সব মহিলারা নিজের জীবনের সমস্ত আশা আকাঙ্খা বিসর্জন দিয়ে বন্দুক তুলেছেন হাতে, জীবন কাটাচ্ছেন জঙ্গলে তারা কি কেউ সাহসী নয় নাকি তাদের বোধ-বুদ্ধি সাবালিকার মত নয়? সাহসিকতার সঙগা কে দেবে? ধনকুবের মিডিয়া গোষ্ঠীরা? যারা রাষ্ট্রের শোষণ ব্যবস্থার অন্যতম একটি পায়া রূপে কাজ করে এবং ছলে বলে কৌশলে দেশের যুবসমাজকে নানা লোভ, অপসংস্কৃতি, ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী করে রাখতে সর্বদা বদ্ধপরিকর।

        আসলে যারা সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন এবং যারা পর্দার পেছনে সকলেই সব কিছু জেনে শুনে সজ্ঞানে বাজারে নতুন কিছু নামানোর চেষ্টায় চার মিনিটের এই রগরগে সিনটি সিনেমায় রেখেছেন। পাওলি যেভাবে বিদেশের রেড কার্পেটে হাঁটাহাটি করা শুরু করেছেন তাতে কালের তত্ত্ব মেনে বার্লিন, কান কি কোথাও দু-একটা পুরস্কার জুটে গেলেও জুটে জেতেও পারে। কিন্তু তাতে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি জগতে কোনো পরিবর্তন হবে? নাকি বাংলা সিনেমায় কোনো প্রভাব পড়বে? ক্রমাগত এরকম চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে থাকলে ভবিষ্যতে এদেশের সেন্সর বোর্ড ক্লোজ আপে নেওয়া চার মিনিটের সেই দীর্ঘ শটটি যেখানে দুজনেরই সমস্ত যৌনাঙ্গ স্পষ্ট প্রতীয়মান, বাদ দেবেই দেবে- হলফ করে বলা যাবে তো?

Tuesday, June 1, 2010

ASTROLOGER IS IN DEEP TROUBLE

Pandit Sitaramji Maharaj was lodged in room no 104 of Hotel Devarshi at Bankura town. He was there since May 13, 2010.
He could make accurate predictions about the future of any person with a mere glance and studying through the palm lines. Further, he can relive anyone from serious hassles ranging from infertility to unsuccessful relations…or just anything possible under the sky. Fees ? Well…that was INR 51 per client for every three predictions.
Yes, that’s what a pamphlet published by Pandit Sitaramji said.
As usual, numerous questions/ queries began to flow in from thousands of people in the local office of the Science and Rationalists’ Association of India, about the logical sanctity of such claims made by Sitaramji.
The association was too eager to bring out the truth. So, a visit to Sitaramji was made in the morning of May 16, 2010, by the members of the association, lead by Biplab Das.
Tarun Rakshit, a member of the association came out with an issue where his wife is unable to bear a child even years after his marriage. Sitaramji’s prescription was instant…” Pay INR 5000 and take a ‘Jantram’ (a talisman)…surely, you will be blessed with a baby by this year”. Tarun is however a bachelor, which the “foreteller” failed to judge.
Chandra Karmakar of Bhairabsthan carried a snap of a girl, whom he said was desperately in love and wanted to marry. Again, Sitaramji promised to solve the issue through “ photograph hypnotism” and charged INR 2800 for the same. The truth is, Chandra doesn’t even know who that girl is. Amazing, isn’t it?
Sitaramji also miserably failed to envisage anything even near to reality in the case of Sudhir Hansda of Harigram, but charged INR 3300 for the same.
Another illustration of his dismal show was about Tuhin Banerjee, a Primary School teacher of Helna Susunia, whom Sitaramji predicted to be suffering from unemployment.
The most apprehending of all was the case of Prasanta Mondal of Bhairabsthan who is a patient of Epilepsy. Sitaramji asserted to heal his disease through “supernatural” means by chanting mantras, which is clearly a criminal offence as per ‘The Drugs & Magic Remedies (Objectionable Advertisement) Act 1954’.
On that very afternoon of May 16, 2010, Biplab Das, Shyam Das, Buddhadev Roy, Babai and other members of the association charged Sitaramji of hoodwinking and cheating people through his false and unscientific claims. Unable to face such grilling where he was bombarded with questions and challenges, Sitaramji broke down and began to give contradictory statements.
Shortly, members of the association lodged a complaint with the local Police Station (General Diary no 1372 dated May 16, 2010 at Bankura sadar thana).
It was later learnt from the authorities of Hotel Devarshi that Pandit Sitaramji has left the abode.

Saturday, July 18, 2009

‘আইলা’- অন্য রকম ভাবার সময় এসেছে

‘আইলা’- অন্য রকম ভাবার সময় এসেছে


‘আইলা’ নামক বিধ্বংসী দূর্যোগটির পরবর্তী তিন সপ্তাহ ধরে আমরা, পশ্চিমবঙ্গবাসীরা সত্যিই বিপর্যস্ত। ঝড়ের দাপটে রাজ্যের প্রতিটি জেলাকে একসাথে কাবু হতে কখনো দেখিনি। উত্তর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর দারুণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বাকি জেলা গুলির অবস্থাও ভাল নয়। রাজ্যবাসীরা যারা সামলে নিয়েছি তারা লক্ষ্য করলাম অদ্ভুত এক রাজনৈ্তিক তরজা। সদ্য পেরনো লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট সরকার এখন রীতিমতো অসহায়-জুবুথুবু অবস্থায় রয়েছে। আইলা পরবর্তী সময় গুলোতে যেখানে আপতকালীন তৎপরতায় কাজ করতে হবে, রাজ্য সরকার সেখানে ভেবেই পাচ্ছেনা কোনটার পর কোনটা করতে হবে। ৩২ বছর নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্টের এমন শোচনীয় অবস্থা হবে কোনোদিন ভাবেনি কেউ। এদিকে রাজ্যের বিরোধী দলের একগুঁয়েমি রাজনীতি চোখে আঙুল দিইয়ে দেখিয়ে দিল রাজ্যের চরম সংকটময় পরিস্থিতিতেও তারা বামফ্রন্ট সরকারের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে না বলেই পণ নিয়েছে। একদিকে ত্রান কিভাবে পৌঁছবে তা নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই, অন্য দিকে কে বা কোন পার্টি ত্রান নিয়ে দুর্গত এলাকায় আগে পৌঁছবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে কবাডি খেলা। কেন্দ্রের কাছে দরবার করে পাওয়া ত্রানের কয়েকশ কোটি বামফ্রন্ট নিজের কব্জায় রাখতে চাইছে, আর বিরোধীদের সরাসরি অভিযোগ ত্রান সামগ্রী নিয়ে সরকার দুর্নীতি এবং দলবাজি করছে। দুপক্ষের এই চাপান উতরে প্রাণ চলে গেল বহু মানুষের। জলবন্দি মানুষগুলি খাদ্য পানীয়ের অভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে। ভাসতে ভাসতে খড়কূটো আঁকড়ে ধরে থাকা প্রাণ গুলি হয় শেষ হয়ে যাচ্ছে সাপের কামড়ে নয়তো মৃত গবাদি পশু ভাসতে থাকা জল পান করে ভেদবমি তে মারা যাচ্ছে। এমন আপৎকালীন অবস্থায় ত্রাণ নিয়ে দুপক্ষের তরজা ভারতের ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়ে স্থান পেল।
বাতাসের গতিবেগ, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, জলোচ্ছ্বাস প্রবল ছিল বটে, তবে ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা ‘আইলা’ নামক এই ঘূর্নিঝড়টির এমন কিছু ক্ষমতা ছিলনা যাতে এতবড় দুর্যোগ ঘটাতে পারে। পেরেছে কেবলমাত্র সুন্দরবন এবং পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকায় জনাধিক্যের কারনে। বছর খানেক আগে ‘সিডার’ আর এ বছরের ‘আইলা’ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রাকৃ্তিক ‘ব’ দ্বীপ অঞ্চলটিকে ছারখার করে দিল।
‘আইলা’ এক প্রকারের সাইক্লোন। সাইক্লোনের শক্তি মূলতঃ নির্ভর করে বাতাসের মধ্যে কতটা লুক্কায়িত শক্তি রয়েছে তার ওপর। উষ্ণ এবং আর্দ্র বাতাস থেকে সাইক্লোন বেশি পরিমাণ শক্তি সঞ্চয় করে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ বাতাসের উষ্ণতা এবং আর্দ্রতা দুটোই লক্ষ্যণীয় ভাবে বাড়ছে যার ফলে সাইক্লোনের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে পরিবেশবিদরা মনে করছেন। গত ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ‘নাসা’-র ‘জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি’ থেকে একটি তত্ত্ব উঠে আসে যেখানে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রতি দশকে প্রায় ১/৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এই বর্দ্ধিত তাপমাত্রার জন্য ঝড়ের পরিমাণ প্রতি দশকে প্রায় ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু তাই নয় ঝড়ঝঞ্ঝার সাথে সাথে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও দশক প্রতি দেড় শতাংশ হারে বাড়ছে বলে তাঁদের ধারণা। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘ইন্টারগভর্ণমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ বা আই পি সি সি-র চতুর্থ অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টও নাসার বক্তব্যকে সমর্থন করে। সেখানেও ঝড়-ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাস বৃদ্ধির ব্যাপারটির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ফলে প্রকৃ্তির খামখেয়ালিপনার যে অন্ত থাকবেনা সেকথা বিশ্বের তাবড় পরিবেশবিদরা একবাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন। আর আমরা প্রকৃ্তির গোঁসা হওয়ার টের পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে। সাইক্লোন নিয়ে গবেষনারত বিজ্ঞানীরা মনে করছেন ভূ-উষ্ণায়নে সমুদ্রের জলস্তর এবং জলোচ্ছ্বাসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছর উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি প্লাবিত হবার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে, বিশেষ করে ভারত মহাসাগরের এবং বঙ্গোপসাগরের উত্তর ভাগে নিম্নভূমির উপকূলগুলি বারে বারে এধরণের প্রাকৃ্তিক রোষের শিকার হবে- যার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের দ্বীপগুলি।
সুন্দরবনের যে অংশটুকু পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে রয়েছে সেখানের নদী বাঁধ গুলি আজ বয়েসের ভারে ন্যুব্জ। অসংখ্য নদী এবং দ্বীপগুলির মোট বাঁধের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯০০ কিলোমিটার। এবারের আইলার দাপটে এর মধ্যে ৪০০ কিলোমিটার নদীবাঁধ ভেঙ্গে গেছে এবং সেই ভাঙ্গা স্থানগুলি দিয়ে হুহু করে জল ঢুকে গ্রামের পর গ্রাম জলবন্দী। শুধু মাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ৬০ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ২ লক্ষেরও বেশি বাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত। বাংলাদেশের দিকে অবস্থা আরও অনেক খারাপ। একেই সেখানে সুন্দরবনের নিম্নভুমির আয়তন বেশি, তার ওপর সেদিনের ঘূর্নিঝড়টি বাংলাদেশের ওপর বেশিক্ষন স্থায়ী ছিল। জরাগ্রস্ত বাঁধগুলি মেরামতি করার পরেও কতটা কার্যকরী হবে সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। সুন্দরবনে এমন অনেক গ্রাম আছে যেখানের ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা নিকটবর্তী নদীর জলস্তরের উচ্চতার চেয়ে কম, গ্রামগুলি টিকে আছে নদীর দুপাড় ঘিরে থাকা বাঁধের ওপর ভরসা করে। জলোচ্ছ্বাসের সময় বাঁধ ভেঙ্গে গেলে হুহু করে নদীর জল ঢুকে পড়ে স্থলভাগে, জলের তোড় মূহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। যেহেতু বাঁধ গুলি উঁচু উঁচু তাই সেই বাঁধ টপকে স্থলভাগের জমে থাকা জল বেরিয়ে পূনরায় নদীতে যেতে পারেনা। মানুষ কার্যত হয়ে পড়ে জলবন্দী। আগেও এরকম হত। এখনো হচ্ছে। ইদানীং ঘনঘন হচ্ছে। প্রকৃ্তির রোষ আর প্রশাসনের চরম উদাসীনতার শিকার হচ্ছে গ্রাম বাংলার অসহায় মানুষেরা।
পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার ভাবছে নতুন করে নদী বাঁধ দেওয়ার কথা। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতি এখুনি এখুনি সম্ভব নয় জেনেও নির্বাচনী হারের লজ্জা ঢাকতে সরকার এরকম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। একবারও ভাবছেনা সামনের বছর কি হবে? আবার সেই আইলা কি সিডার, আবার লক্ষ লক্ষ মানুষের হাহাকার, আবার ত্রান বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকার ধাক্কা, বাঁধ মেরামতিতেও কয়েক হাজার কোটি। শেষ নেই। শেষ নেই। বরং গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ফলে দূর্যোগ অনেকাংশে বাড়বে হলফ করে বলা যায়। তাহলে উপায়?
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন নদী বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই রায় হল, নদী তে জলাধার, বাঁধ ইত্যাদি না দেওয়াটাই সমিচীন। এতে ক্ষতি হয় নদীরই বেশি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। কোনো প্রজেক্ট করতে গিয়ে পরিবেশের কথা ভাবার অভ্যাস কোনো দেশের রাষ্ট্রনায়কদেরই নেই। এ ব্যাপারে ভারত, চীন, আমেরিকা সব্বাই এক গোয়ালের বসবাসকারী। আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করলাম গত ১৫ জুন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী পরিকল্পনা-প্রস্তাব করলেন যে, সুন্দরবনের নদীবাঁধ আবার নতুন করে, আরো উঁচু করে বানানো হবে এবং তার বেশিরভাগটাই হবে কংক্রীটের। সে জন্য তিনি দশ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় ধরেছেন। ঐ দিনই কৃ্ষিমন্ত্রী নরেন দে জানালেন, এখনও অবধি আইলার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে দেড় লক্ষ হেক্টর কৃ্ষিজমি নষ্ট হয়েছে। তিনি আইলা বিধ্বস্ত অঞ্চলে কৃ্ষিকাজ ফিরিয়ে আনতে দু লক্ষ বিরানব্বই হাজার মিনিকিটের বস্তা, সত্তর হাজার জৈব সারের বস্তা বিনি পয়সায় বিলি করবেন। ভাল কথা, কিন্তু একবারও কেউ ভেবে দেখছে না এমনি করে আর কতদিন চলবে? উঁচু করে দেওয়া বাঁধ যদি গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ভবিষ্যতের বড় বড় দুর্যোগের ফলে একবার ভেঙ্গে যায় তাহলে কি হবে? হু হু করে জল ঢুকবে কিন্তু দুর্যোগ পরবর্তী সময়েও বেরোতে পারবেনা উঁচু বাঁধ থাকায়।
চব্বিশ পরগণা জেলা হ্যান্ডবুক অনুযায়ী, সুন্দরবনের দ্বীপভুমি এবং অতিনিম্নভুমি অঞ্চলগুলি তে থাকেন লাখ দশেক লোক যারা প্রাকৃ্তিক দুর্যোগগুলিতে প্রতি বছর সরাসরি এবং বেশি পরিমানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে দশ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তাদের কে আরও অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে সেই টাকায় পাকাপাকিভাবে পূনর্বাসন দেওয়া যেতনা কি? বছর বছর ত্রান বাবদ, পরিকাঠামোর পূনর্গঠন বাবদ আরও হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যেত। সবচেয়ে বড় কথা, বাঁচানো যেত অজস্র প্রাণ। ফি বছর দূর্যোগ সামলে আধমরা হয়ে যুঝতে থাকা মানুষগুলির জন্য এটিই বোধকরি একমাত্র সমাধান। আন্তর্জাতিক পূনর্বাসন নীতি মেনে কাজটি করলে বিদেশি সংস্থাগুলি থেকে ঋণ পাওয়া যেতেও পারে।
বাধ সাধতে পারেন রাজনৈ্তিক নেতারা। কোনো একটি বিশেষ এলাকা থেকে মানুষদের তুলে নিলে ওই এলাকায় যে বিধায়ক বা সাংসদের ভোট ব্যাংক রয়েছে তিনি পড়বেন মহা ফাঁপরে। তাই স্থানীয় নেতারাই এ বিষয়ে প্রবল বাধা দিতে পারেন, জনগনকে ভুল বোঝাতে পারেন। ভারতের নির্লজ্জ রাজনীতির ইতিহাস তাই বলে।
আমাদের মহান রাজনীতিকেরা ক্ষুদ্র স্বার্থান্বেষন ছেড়ে জনগনের সত্যিকারের উপকারে লাগবেন কি এবার?

--- বিপ্লব দাস
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি
E mail: rationalistbiplab@rediffmail.com
rationalistbiplab@gmail.com