Showing posts with label SCIENCE AND RATIONALISTS ASSOCIATION OF INDIA. Show all posts
Showing posts with label SCIENCE AND RATIONALISTS ASSOCIATION OF INDIA. Show all posts

Sunday, July 23, 2017

মিড ব্রেন অ্যাক্টিভেশনঃ প্রতারণার নতুন কৌশল

   
   
       অয়ন্তিকা কলকাতার একটি নামী স্কুলের ছাত্রী। তার এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত। এতক্ষণ অন্য বন্ধুরা কেউ গান কেউ মাউথ অর্গান নিয়ে আনন্দ করছিল, সে আসতেই, সকলের চোখ ঘুরে গেল তার দিকে। কিছুদিন আগেই বন্ধুরা জেনেছে, এই বাচ্চাটি তাদের মতো এলেবেলে নয়। দিনকয়েক আগে ওর মধ্যমস্তিষ্ক জেগে উঠেছে। কোনো একটি সংস্থা থেকে মিড ব্রেইন অ্যাক্টিভ করার যে কোর্স করাচ্ছে, সেই কোর্সে ভর্তি হয়ে এখন দিব্যচক্ষু গেছে খুলে। চোখ বাঁধা অবস্থায় দিব্যি বলে দিচ্ছে স্কেচ পেনের রঙ, বইয়ের পাতার সংখ্যা, এমনকি বই পড়েও দিচ্ছে গড়গড় করে। স্কুলে মাঝারি মানের পড়াশোনা করা বাচ্চাটি হঠাৎ কী করে এমন বদলে গেল, রহস্যটা কী, কায়দা করে জেনে নিতে হবে বলে ভেবে রেখেছিলেন বাকি বাবা মায়েরা। সে আসতেই শুরু হল কৌতুহলী প্রশ্ন।
      
     সায়েন্স ফিকশন নয়, কল্পবিজ্ঞানের গল্পও নয়। ঘটনাটি খাস কলকাতার এবং এই বছরেরই। একটুও অবাক হবেননা। গত দু বছর থেকেই কলকাতার বহু স্কুলে দু-চারটি এরকম বাচ্চা দেখা দিচ্ছিল যারা চোখ বাঁধা অবস্থায় জিনিসের রঙ বলে দিচ্ছে বা বই খাতা পড়ে দিচ্ছে। এবছর শুরু হয়েছে জেলার মফস্বল শহরগুলিতে। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তরচব্বিশ পরগণা জেলা ছেয়ে গেছে এরকম দিব্য চক্ষু খোলাবার সংস্থায়।
      
     কারা এরা? সত্যিই কী দিব্যচোখ বলে কিছু আছে? যদি আছে তা কী কেউ জাগ্রত করতে পারে? যদি পারে তাহলে কী উপায়ে তা সম্ভব?
      
     বছর চারেক আগে মিড ব্রেন অ্যাক্টিভেশনের কোর্স করিয়ে মুম্বই থেকে ব্যবসা জমানোর চেষ্টা করছিল 'মাইণ্ড টেক' নামের একটি সংস্থা।  কোর্স ফী ছাত্র পিছু  পঁচিশ হাজার। পশ্চিমভারতের পর তারা পাড়ি দিল দক্ষিণ ভারত। সেখানে ম্যাঙ্গালোর এবং কোচিনের বিজ্ঞানকর্মীদের কাছে বাধা পেল। কিন্তু দমে না গিয়ে তারা টার্গেট পয়েন্ট সরিয়ে নিয়ে এল কলকাতায়। বিজ্ঞাপন একটু পাল্টাতে হল। শুধুমাত্র চোখ বাঁধার অলৌকিক ক্ষমতায় বাঙালী ভিজবেনা বুঝে এর সাথে যোগ হল আরও পালিশ। যেসব শিশুরা সকালে ঘুম থেকে উঠতে গড়িমসি করে তাদের জন্য প্যাকেজের মধ্যে এল স্লিপিং অ্যাওয়েকনেস, একদিনে দুশো পাতা পড়ে ফেলার ক্ষমতার জন্য কোয়াণ্টাম রিডিং, বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে বাচ্চার ভবিষ্যত নির্ধারণের জন্য ডার্মাটোগ্ল্যাফিক্স ইন্টেলিজেন্সি টেষ্ট। বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানীরা এগুলোকে অপবিজ্ঞান বা সিউডোসায়েন্সের তালিকায় নথিভুক্ত করলেও এটা মিডব্রেন বেওসায়ীরা এটা জানে যে ভারত একটি বিশাল জনসংখ্যার দেশ, এখানে মাত্র এক শতাংশ মানুষকে এক টাকা করে ঠকাতে পারলেই কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়। কলকাতাতেও পরিবেশ তৈরিই ছিল। সেই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বাচ্চা। সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যেতে চায়না, সারাদিনের ইঁদুর দৌড়ে এক আধবার দুষ্টূমির সুযোগ খোঁজে। স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার সুযোগ না দিয়েই বাবা মা তাদের বাচ্চাদের সব বিষয়েই ফার্স্ট করতে চান। পড়া, নাচ, ছবি, সাতার, টেনিস, দাবা- সবেতেই অংশগ্রহণ করতে হবে। আর হ্যা, সবগুলোতেই ফার্স্টও হতে হবে। প্রতিযোগিতা শুধু মাত্র ছাত্রদের মধ্যে নয়, অভিভাবকদের মধ্যেও। ফ্ল্যাট কালচার, বাড়িতে চতুর্থ জনের অনুপস্থিতি, অফিসের বাইরে বাবার কোনো অস্তিত্ব নেই, মায়ের গর্ব শুধুমাত্র বাড়ির ফার্ণিচারে আর সন্তানে। হাঁস ফাস শুধু বাচ্চাটি করেনা, করছে বাবা মায়েরাও। মেলাঙ্কলিক অবস্থা থেকেই অলৌকিকতার নতুন ভার্সানে বিশ্বাস। আর এই সুযোগকে সুন্দরভাবে কাজে লাগাচ্ছে আগরওয়াল, কাপাডিয়ারা।
        
      তো হল কী, সেই আগরওয়াল খুললেন এখানে কিছু শাখা। একটি সালকিয়ায়। তারপর অন্যেরা একে একে গড়িয়াহাট, দমদম, গড়িয়া, হাওড়া। নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বমুলক প্রতিযোগিতা। যদিও গড়িয়াহাটেরটিই এখনও সবার চেয়ে এগিয়ে। জেলা গুলিতেও তারাই সবচেয়ে বেশি শাখা খুলতে পেরেছে।
    
       শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি ঘোষনা করেছেন বেসরকারি স্কুলগুলির অব্যবস্থায় লাগাম টানবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্কুলের অতিরিক্ত ফীজের দিকে নজর দিচ্ছেন। কিন্তু গোকুলে বাড়ছে যারা? গুগল খুললেই যে সব সংস্থাগুলো মিড ব্রেন, স্মার্ট ব্রেন, শার্প মেমরির নামে পকেট কাটছে তাদের কী হবে?
      
       জাদুকর জাদুর খেলা দেখান দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য। সেই খেলা দেখে আমরা বিস্মিত হলেও মনে মনে এটা বিশ্বাস নিয়ে বাড়ি ফিরি যে এতে অলৌকিক বলে কিছু নেই। আছে, বিশেষ কিছু কৌশল যা সাধারণ মানুষও চেষ্টা করলে আয়ত্ত করতে পারে।
    
       খুব পুরোনো একটি জাদু কৌশল হল চোখ বেঁধে মোটরবাইক বা সাইকেল চালানো। গত শতকের বিশের দশকে জাদুকর দুনিঙ্গার প্রায়শই চোখ বেঁধে গাড়ি চালিয়ে শপিংয়ে যেতেন। ডেভিড বার্গেলস ১৯৫০ সালে একটি আস্ত উড়োজাহাজকেই চালালেন চোখ বাঁধা অবস্থায়। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরে খুবই সূচারু হাতে সেটিকে অবতরণও করলেন। জেমস র‍্যাণ্ডিও একসময়ে এরকমই একটি স্টাণ্টবাজি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তার দু চোখের ওপরে দুটো প্রমাণ সাইজের পিৎজাকে রেখে চোখ কালো কাপড়ে বাঁধা হয়েছিল, তারপর একটা কালো দুই স্তরের মোটা ব্যাগকে মাথায় পরিয়ে ব্যাগের মুখটি গলার কাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল। গাড়ির পাশে সর্বক্ষণ ছিলেন একজন রিপোর্টার। যেদিকে যেদিকে রিপোর্টার যেতে বলেছিলেন, র‍্যাণ্ডি নিউ জার্সি শহরের সেদিকেই গাড়ি ঘুরিয়েছিলেন অবলীলাক্রমে। হায়দরাবাদের সরোজা রায়ও চোখ বেঁধে গাড়ি চালাতে পারতেন। মাত্র সাত বছর বয়সে দুনিয়ার ক্ষুদেতম ব্লাইণ্ডফোল্ড ম্যাজিশিয়ান হিসেবে নজর কাড়েন, পরে মাদ্রিদের বিশ্বম্যাজিক প্রতিযোগিতায় যোগ দেন।
    
       ৬ ফেব্রুয়ারি ২০০২, টাইম ম্যাগাজিনের শিরোনামে এল নাতালিয়া লুলোভা নামের এক রাশিয়ার বালিকা। লুলোভার পরিবার বছর তিনেক ধরেই আছে ব্রুকলিনে। টাইমের নিবন্ধকার একদিন দেখলেন, ম্যানহাটন শহরের আইন দপ্তরের ফুটপাতে বসে একটি বছর দশের বাচ্চা মেয়ে মায়ের কোলে মুখ গুঁজে কাঁদছে। কারণ কিছুক্ষণ আগেই নাকি জেমস র‍্যাণ্ডির চ্যালেঞ্জের কাছে তাকে গোহারা হতে হয়েছে। ঘটনাটি ছিল এরকম যে, র‍্যাণ্ডির বহুদিনেরই ঘোষণা- কেউ যদি কোনো অতীন্দ্রিয়, ঐশ্বরিক, অলৌকিক ক্ষমতার পরিচয় দিতে পারবে তাকে দেওয়া হবে দশ লক্ষ ডলার পুরস্কার। তো, র‍্যাণ্ডির ঘোষণার কথা শুনে লুলোভার কোচ মার্ক কমিশারভ তাকে নিয়ে এসেছিল ম্যানহাটনে। কমিশারভ নিজে একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হলেও লেনিনের দেশে তার পরিচিতি একজন প্যারানর্মাল ক্ষমতা তৈরির কোচ হিসেবেই। নাতালিয়াকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোচিং করিয়েছেন কিভাবে চোখ বাঁধা অবস্থায় যেকোনো বস্তুকে শুধুমাত্র ছুঁয়েই তার রং বলে দেওয়া যায়। এদিকে জেমস র‍্যাণ্ডি এডুকেশন্যাল ফাউণ্ডেশনের কর্মকর্তাদের চিড়ে শুকনো কথায় ভিজবে না। তাঁরাও পুরস্কার দেবার আগে বাজিয়ে নেবেন সবদিক দিয়ে। তবেই না কয়েকদশক ধরে তাঁদের চ্যালেঞ্জ অটুট আছে। তাঁরা প্রথমে নাতালিয়ার চোখে পরিয়ে দিলেন সাঁতারুদের চশমা। চশমার সামনেটা মুড়ে দিলেন স্পঞ্জ এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে। নাতালিয়া র‍্যাণ্ডিকে অবাক করে দিয়ে ওই অবস্থায় পর পর বলে দিতে থাকল তাকে ছুঁতে দেওয়া বস্তুর রঙ। এটা ওপেন চ্যালেঞ্জ। দর্শক হিসেবে হাজির ছিলেন বহু মানুষ। চ্যালেঞ্জের হারজিত নির্ধারণের  জন্য দু তরফেই একজন করে উকিল বসে চেয়ারে। দর্শকদের হাততালিতে যখন হলঘর ফেটে পড়ছে তখন র‍্যাণ্ডি এই পরীক্ষাটিই পূনর্বার করে দেখতে চাইলেন। এবারও নাতালিয়ার জিত হল। র‍্যাণ্ডি বুঝলেন তার বোকামিটা কোথায়। দ্বিতীয় পরীক্ষা থামিয়ে নাতালিয়ার চশমার চারদিকে লাগিয়ে দিলেন ইলেকট্রিক তার জোড়া দেওয়ার ব্ল্যাকটেপের মত একটি জিনিস। তিনি বিশেষ করে বোজাতে চাইছিলেন নাক আর চোখের মাঝখানের কোনা মতো স্থানটি। স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলেন নাতালিয়া কোনোভাবেই যেন চুলকোবার আছিলায় নাকে বা চোখে হাত না দেয়। ব্যাস। এখানেই কেল্লা ফতে। টানা একঘণ্টা চেষ্টা করেও হাজার ছুঁয়েও নাতালিয়া একটি বস্তুরও রঙ বলে দিতে পারেনি।
        
       তবে এসব ব্যাপারে সবচেয়ে শোরগোল ফেলেছিলেন বোধহয় ইউরি গেলার। পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা ‘নেচার’-এ ১৮ অক্টোবর ১৯৭৪ আমেরিকার বিখ্যাত বিজ্ঞান গবেষণাগার ‘স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট’-এর একটি রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই ইউরি চলে এলেন পৃথিবীর প্রায় সমস্ত সংবাদপত্রের শিরোনামে। বলা বাহুল্য ভেড়ার পালের গল্প সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
     
     
   

         ইউরি জন্মসূত্রে ইজরালীয়। তরুণ বয়সে ছিলেন ইজরালীয় গুপ্তচর সার্ভিসে, পরে প্যারাশুট-সেনা বিভাগে। বাইশ বছর বয়সে সেনাবাহিনী ছেড়ে যাদুকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। শিমসন শট্টাংকে সহকারী করেন। এই দুজনে মিলে করতেন কী, শহরের সম্ভ্রান্ত বাড়ির পার্টিগুলিতে জাদু খেলা দেখাতেন। সেখানে অন্যান্য জাদুর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল চোখ বাঁধার খেলাটি। দুজনের মধ্যে একজনের চোখ বাঁধা থাকে, অন্যজন দর্শকদের কাছ থেকে একটি একটি করে জিনিস নিয়ে তুলতে থাকেন, আর বাঁধা চোখের কাছ থেকে আসতে থাকে সঠিক বর্ণণা। এই জাদু দেখাতে দেখাতে ইউরির অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার দাবি যতই বাড়তে লাগল লণ্ডনের ম্যাজিক সার্কেল মনে করতে লাগল ইউরি জাদুখেলায় অলৌকিকত্বের দাবি করে রীতিমতো অন্যায় কাজ করছেন। অবশেষে ম্যাজিক সার্কেল ইউরির সদস্যপদ বাতিল করে দেয়।
    
       লণ্ডন বাতিল করল তো কী হয়েছে। সু্যোগসন্ধানী ইউরি একেবারেই কেয়ার করলেন না। বছর খানেকের মধ্যেই তার জীবনে এলেন মার্কিন ধণকুবের ড অ্যানড্রিজা পুহারিক। পুহারিক একাধারে বিজ্ঞানী এবং অতীন্দ্রিয় শক্তির অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত প্রাণ। পুহারিকের অর্থ, প্রচার, বিজ্ঞানকে কাজে লাগালেন ইউরি। এজন্য অনেক দেশের দূরদর্শনকে ম্যানেজ করে সেখানে অনুষ্ঠাণ করতে লাগলেন। সেসময় ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সংস্থার হয়ে গবেষনার কাজ করত। আমেরিকা বরাবরই প্যারাসাইকোলোজিস্টদের আঁতুড়ঘর। সেখানেরই কিছু প্যারাসাইকোলোজিস্ট কিছুদিন ধরেই ইউরির ওপর নজর রাখছিলেন। তারা এগিয়ে এসে ইউরির অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার ওপর পরীক্ষা করার জন্য স্ট্যানফোর্ড রিসার্চের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। প্যারাসাইকোলোজিস্ট এবং বিজ্ঞানী দুই সত্বাই আছে এমন দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হল ইউরিকে পরীক্ষা করার জন্য। এদের মধ্যে একজন হলেন ড পুটহফ, অন্যজন ড টার্গ। দুজনেরই তখন লেজাররশ্মির ওপর গবেষনা নিবন্ধ প্রকাশ হয়ে গেছে এবং বিজ্ঞানী মহলে অল্পবিস্তর পরিচয়ও আছে। ঠিক এরকমই খুঁজছিলেন ইউরি।
     
       তবে ইউরি গেলারের অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার কথা নেচার কখনই সমর্থনের সুরে প্রকাশ করেনি। তারা কেবলমাত্র স্ট্যানফোর্ড রিসার্চের রিপোর্টটি প্রকাশ করেছিল। এবং তাও গবেষনার দুবছর পরে। এমনকি নেচার এর সত্যতার কোনোরূপ দায়িত্বও নেয়নি।
     
       ইউরি তখন মধ্য গগনে। অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার প্রদর্শনে আরও মেতেছেন। চোখ বেঁধে বই পড়ে আর গাড়ি চালিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। এমন সময়ে জেমস র‍্যাণ্ডি ইউরি গেলারের অতীন্দ্রিয় ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে বই লেখেন, ‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট ইউরি গেলার’। এই বইতে গেলারকে কোপ্তা কাবাব বানানো হয়েছিল। ইউরি মামলা ঠুকে বসলেন র‍্যাণ্ডির বিরুদ্ধে। কোর্টে র‍্যাণ্ডি তাই তাই করে দেখাতে সমর্থ হলেন যা যা ইউরি দেখান। ব্যাস। মামলায় ইউরির হার হল এবং কোর্টের রায়ে র‍্যাণ্ডির মোকদ্দমা চালানোর পুরো খরচ আনা পয়সা হিসেবে মিটিয়ে দিতে হল তাকে। সেই থেকে সংবাদ শিরোনামে ইউরিকে আর দেখা যায়না।
      
        চোখ বাঁধা অবস্থায় শুধুমাত্র স্পর্শ করে বলে দেওয়ার ক্ষমতার কথা প্যারাসাইকোলোজিস্টদের বইতে ভুরি ভুরি পাওয়া যায়। সেই দীর্ঘ তালিকায় ১৮২০ সালের ওয়াশিংটনের এক বিশপ যেমন আছেন, হাল আমলের ইতালির মাঝবয়সী মহিলাও আছেন। প্রায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনোরূপ বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা হয়নি, বা হলেও সেই পরীক্ষার দশা হয়েছে ইউরির স্ট্যানফোর্ডের মতোই। কয়েকবছর আগে ইতালির এক মধ্যবয়স্কা যিনি নিজেকে আর জি নামে জনপ্রিয় করে ফেলেছিলেন বিজ্ঞানীদের পরীক্ষায় ডাঁহা ফেল করলেন। পাভিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্বাবধানে তাকে পরীক্ষা করলেন দুজন বিজ্ঞানী এবং একজন মনোবিদের একটি দল। একটি বাক্সের মধ্যে রাখা খামবন্ধ বস্তুগুলির পরিচয় দিতে আর জি ব্যর্থ হলেন।
        
        প্যারাসাইকোলোজিস্টদের মিথ্যে দাবিকে বাগে আনতে বিজ্ঞানী মহলেও কেউ কেউ একটু আগ বাড়িয়েই চোখ বেঁধে দেখতে পাওয়ার বিষয়টিকে পরীক্ষা করে দেখতে গেছেন। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা হতাশ। কেউ কালো কাপড়ের তলা দিয়ে দেখছিল তো কেউ চোখের পটির তলা দিয়ে দেখছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বস্তুটির গায়েই মসৃণতায় সূক্ষ পার্থক্য রাখা ছিল, অনেকটা অন্ধদের ব্রেইলি শিক্ষার মতো।
      
       ব্লাইণ্ডফোল্ডের জাদুগুলো ইউরোপে এখন এতই বেশি সহজলভ্য হয়ে গেছে যে প্রতিষ্ঠিত জাদুকরেরা এড়িয়ে চলেন। সেখানের ম্যাজিক বাজারে মাত্র ২৫ ডলার খসিয়ে যে কেউ এই জাদু শিখে নিতে পারছেন।
    
       আবার আসি ২০১৪ তে। মুম্বই থেকে দক্ষিণ ভারত হয়ে কলকাতা এবং বাংলার জেলাগুলিতে এল ব্লাইণ্ডফোল্ড। কোর্সগুলিতে প্রথম কদিন নাচা-গানা, গ্রুপ থেরাপি, মেডিটেশন শেখানোর পরই এক এক জন বাচ্চাকে তারা বেছে বেছে শেখাচ্ছে চোখ বেঁধে দেখতে পাওয়ার কৌশল। প্রতিটি সংস্থা তাদের শাখা খুলছে মহকুমা শহরেও। আকর্ষণীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি অফার আছে। শুধুমাত্র ঘর ভাড়া আর লোকাল ঝামেলা সামলে নিলেই বাচ্চা পিছু কমিশনের ব্যবস্থা বজায় আছে। এভাবে কোর্স করে আসা বাচ্চাদের বেশ কয়েকজনকে আমি নিজে পরীক্ষা করে দেখেছি, চোখে মেরে দিয়েছি আঠালো পটি। ব্যাস, সবার অলৌকিক ক্ষমতা মুহূর্তে ভ্যানিশ। মাস কয়েক ধরে বহু স্টেজে আমি ফাঁস করে চলেছি মিড ব্রেনের কৌশল। আমার ছয় বছর বয়সী কন্যা চোখ বেঁধে আমার পার্টনার হচ্ছে।
      
       এটা নিছক ম্যাজিক হলে নিশ্চয় কিছুই বলার থাকত না। কিন্তু মিড ব্রেন অ্যাক্টিভ করে দেওয়ার নামে এরা যেটা করছে তা হল বিশুদ্ধ প্রতারণা। বিজ্ঞান বলে, মস্তিষ্ককে ধার দেওয়ার কোনো শর্টকার্ট নেই। জন্টি রোডসের ক্ষিপ্রতা, গাওস্করের ধৈর্য কিম্বা রিচার্ডসের ইনটিউশন- সবই এসেছে দীর্ঘদিনের কঠোর অভ্যেস, পরিশ্রম আর নিয়মানুবর্তিতার পর। এর কোনো বিকল্প নেই। বাবা মায়েরা কবে বুঝবেন পৃথিবীর কোনো কোর্সই তার বাচ্চাকে চোখ বেঁধে দেখতে পাওয়ার ক্ষমতা এনে দিতে পারবেনা। এতে শুধু বাচ্চারা মিথ্যে বলা শিখছে। প্রথম দিকে তারা তার বাড়ির লোককে মিথ্যে বলছে, পরে বলছে বন্ধুদের এবং অন্যদের। যে মিথ্যে মজা দিয়ে শুরু হচ্ছে, পরে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে আর কোনোদিনই সত্যি হচ্ছেনা। যতদিনে বাচ্চা ল্যাটেন্সি পিরিয়ড থেকে সেকেণ্ডারি নার্সিস্টিক অবস্থায় পৌঁছবে, অভিভাবকদের আর কিছু করার থাকবেনা। পকেট ফাঁকা তো হবেই, সাথে সাথে বাচ্চার বিশ্বাসযোগ্যতাও কমবে। কোর্সের ট্রেনার বা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকরাও বেপাত্তা হয়ে যাবে। চিটফাণ্ডের খুদে সংস্করণ দেখতে পাব আমরা।

        
        অভিভাবকেরা তখনও হয়তো বুঝবেননা স্লিপিং অ্যাওকনেসের কোর্স করে নয়, বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠতে চায় কর্মব্যস্ত বাবা মায়েদের নরম আঙ্গুলের ছোঁয়ায়, ঘুমোতে চায় ঠাকুরমার ঝুলি শুনে। 

FOR YOUTUBE LINK- https://www.youtube.com/watch?v=8tUbtHyYZl8&t=2s

Monday, September 5, 2016

TERESA AND SAINHOOD

Vatican confers SAINTHOOD on Teresa not for writing a poetry, not for hard working, not for her degrees or even not for her service to the wretched people at Missionaries of Charity for her whole life. She has been declared a Saint for "The power to cure the ill with miracles".
So, the peoples among you who are excited for her Sainthood must accept that diseases can be cured by 'locket', 'tabiz', 'kaboch', or by 'mantras'.
If you fall ill, will you not go to hospital? if you go, it will be understood that either you are hypocrite or you don't have faith on Teresa.
Yes, remember one thing more, the owners and the reporters of the Anandabazar Patrika group and other Bengali media, who make you dancing in joy, do not keep their faith on 'lockets' or 'mantras' when they fall ill. And even Mamata Bandopadhyay and Sushma Swaraj rely on Hospitals when they fall ill.

So, think carefully, whether you are the only person who is 'be fooled'?

Tuesday, December 2, 2014

science awarness programme in a school of a remote village.



 
its a science awarness programme in Mankanali High School , a remote village school of District Bankura, WestBengal, India. The Programme performed by Bharatiya Bigyan O yuktibadi Samiti (SCIENCE AND RATIONALISTS' ASSOCIATION OF INDIA) on date 13 sept. 2014.

Tuesday, August 19, 2014

we are disclosing the miracle behind FIRE WALKING.

 
 
its our regular antisuperstition school programme. this time we are in CHHATNA GIRLS HOGH SCHOOL of BANKURA DISTRICT in INDIA. we are disclosing the miracle behind FIRE WALKING.

in india , many godmen walk on fire and they said it is miracle. So, in our anti superstition programme we disclose this miracle by walking. At first we disclose the science behind it and walk on fire, then we invites the villagers. they walk with us and this process they know that nothing is miracle in case of fire walking. But in school premises sometimes it is impossible to arrange the space of fire walking. So we depends up on this stick. We are describing the fact and demo is a fired stick. IF THE FIRE TOUCHED OUR SKIN FOR A SMALL MOMENT ( LESS THEN 1/3 SECOND) THEN OUR SKIN NEVER BURNED......

Saturday, July 26, 2014

A 9 year old girl was mentally tortured after being accused as witch by the villagers in WestBengal.


Borogora village in District Purulia of West Bengal. Last week, a 9 year old girl Sumitra Hansda was mentally tortured after being accused as witch by the villagers. Sabujmoni, mother of Sumitra left the village and took a safe shelter. She told us villagers are demanding 1 lakh rupee as a fine. She also told us, villagers threatened her if she does not pay, she will de-head. A few months ago, Sabujmoni’s mother in law Tusumoni was also tortured by the villagers as a witch and the family was fined Rupees 50000. The poverty stricken family was forced to pay the money by selling the domestic cattle like buffalos, goats. Now, sabujmoni have decided not to pay the money demanded by the villagers again. They have decided to fight against the judgment of villagers.
The members of our organisation "Science and Rationalists Association of India" tried to convince the villagers. We  met local poice station create the pressure on administration to take a strong action. We also spread our helping hand to Sabujmoni, if she agree to a legal fight.
 

Saturday, January 11, 2014

“বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস”

                                  ২০১৪ সালের কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হতে চলেছে প্রবীর ঘোষ ও বিপ্লব দাসের যৌথভাবে লেখা বই                                                                                       “বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস”




মূল্যঃ- ২০০ টাকা
প্রকাশকঃ- দে’জ পাবলিশিং
১৩ বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কলকাতা – ৭৩
ফোনঃ- (০৩৩) ২২১৯৭৯২০ / ২২৪১২৩৩০
রাজ্যের অন্যান্য জেলায় দে’জ-এর কাউন্টার —-
বর্ধমানঃ- ৯৪৩৪৫৭১৮২৩
শান্তিনিকেতনঃ- ৯৪৩৪১১৬৭১৬
ঠাকুরপুকুরঃ- ৯৮৩১৬৩৩৯৩৭
দুর্গাপুরঃ- ৮১০১৯৪৭৪৪৬
উত্তরপাড়াঃ- ২৮৪৮০১০০



http://www.srai.org/%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%A4/

Friday, December 20, 2013

HOMOSEXUALITY AND COMMUNIST COUNTRY


At the first phase of socialist govt in Soviet Russia homosexuality was not a subject matter because the communist leaders were not so much worried about this matter. But when Stalin came into power he banned homosexuality. During the Stalin era (1933-1953), Article 121 was added to the criminal code, for the entire Soviet Union, that expressly prohibited homosexuality, with up to five years of hard labor in prison.
Those who are so much vocal in favour of gay rights and claims themselves as communists, please go through Mao Zedong during the time of Cultural Revolution. For further studies they should read thoroughly the related laws in Soviet Russia during the Stalin era.
Most of the communist country does not allow it in their constitution.

Monday, September 30, 2013



To
Sri Subrata mukherjee
Hon. Minister, West Bengal




We are challenging you. Either you take our challenge or stop this nonsence.



Tuesday, August 20, 2013

Narendra Dabholkar, leading anti-superstition campaigner of India shot dead

Narendra Dabholkar, leading anti-superstition campaigner of India, social worker and journalist, was gunned down in Pune by unidentified motorcycle-riding assailants on 20thaugust, 2013.
The attack took place around 7.30 a.m.IST near Omkareshwar Temple, when Dabholkar, in his 60s, was on his morning walk. The two gunmen fired indiscriminately at Dabholkar and sped away, leaving him in a pool of blood. The assailants fired four rounds at him from a point blank range and fled on a motorcycle parked nearby.Two bullets hit Dabholkar in his head and chest.
Narendra Dabholkar born on November 1945 was an Indian rationalist and author from Maharashtra. He was the founder-president of Maharashtra Andhashraddha Nirmoolan Samiti (MANS), an organization set up to eradicate superstition.  He was a doctor, having obtained an MBBS degree from the Miraj Medical College, Miraj. After working as a general practitioner for over a decade, Dabholkar became a social worker in the 1980s.
Gradually, Dabholkar started focusing on eradication of superstition, and joined the Akhil Bharatiya Andhashraddha Nirmoolan Samiti (ABANS). In 1989, he founded the Maharashtra Andhashraddha Nirmoolan Samiti ("Committee for Eradication of Superstition in Maharashtra"), and campaigned against superstitions, confronting dubious tantriks and holy men. Over the years, Dabholkar had also challenged some of India's "godmen", self-styled Hindu ascetics who have huge followings, over their claims to have performed miracles.
He also campaigned against animal sacrifices during some religious rituals.He was the founding member of Parivartan, a rehabilitation centre located in Satara. Dabholkar was the editor of a renowned Marathi weekly Sadhana.
In the 2010s, Dabholkar made attempts to get an anti-superstition law enacted in the state of Maharashtra. Under his supervision, the MANS drafted the Anti-Jaadu Tona Bill (Anti-Black magic Bill). It was opposed by certain Hindu extremist organizations. It was also opposed by the political parties like Bharatiya Janata Party and Shiv Sena on the grounds that it would adversely affect Hindu culture, customs and traditions. A couple of weeks before his death, Dabholkar had complained that the bill had not been discussed despite being tabled in seven sessions of the state assembly. He accused the chief minister of Maharashtra, Mr. Prithviraj Chavan of stifling progressive thought in the state.

Friday, May 3, 2013

বর্ধমানে শিশুর মৃতদেহ এবং মড়ার খুলি বহনের সময় গ্রেপ্তার আট গাজন সন্ন্যাসী

বর্ধমানে শিশুর মৃতদেহ এবং মড়ার খুলি বহনের সময় গ্রেপ্তার আট গাজন সন্ন্যাসী

গাজন উপলক্ষে চৈত্রের শেষে চলে মৃতদেহ ও মড়ার খুলি নিয়ে নৃত্য

Sishur mrito deho & morar khuli pacharer somoy arrest 8 jon Gajon Sanyasi (3) copy  দু’মাসের একটি বাচ্চার মৃতদেহ এবং মড়ার খুলি বহনের সময় আট গাজন সন্ন্যাসীকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার অধীন শক্তিগড় ফাঁড়ির পুলিশ। বর্ধমান থানার বেচারহাট এলাকার শ্মশান থেকে বাচ্চার মৃতদেহ এবং খুলিটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পুলিশ মৃতদেহ এবং খুলিটি বাজেয়াপ্ত করেছে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে মৃতদেহ এবং খুলিটির ময়না তদন্ত করিয়েছে পুলিশ। ধৃত আটজনেরই বাড়ি বর্ধমান থানার সোনা পলাশি গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চৈত্র মাসে গাজন উপলক্ষে বর্ধমানের কুড়মুন, সোনা পলাশি, পারুই, কুবাজপুর সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে মড়ার খুলি নিয়ে নাচানাচি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আSishur mrito deho & morar khuli pacharer somoy arrest 8 jon Gajon Sanyasi (6) copyট সন্ন্যাসী বেচারহাট শ্মশান থেকে মাস দুয়েকের বাচ্চাটির মৃত দেহ এবং মড়ার খুলি নিয়ে মোটর ভ্যানে সোনা পলাশি গ্রামে যাচ্ছিল। শক্তিগড় বাজার এলাকায় সন্ন্যাসীদের দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। তাঁরা ভ্যানটিকে আটকান। তল্লাশিতে বাচ্চার মৃতদেহ এবং মড়ার খুলি দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপরই ভ্যানটিকে আটকে শক্তিগড় ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শক্তিগড় ফাঁড়ির পুলিশ সন্ন্যাসীদের গ্রেপ্তার করে। ভ্যানটিকেও পুলিশ আটক করেছে। এদিনই ধৃতদের বর্ধমানের সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আSishur mrito deho & morar khuli pacharer somoy arrest 8 jon Gajon Sanyasi (5) copyসা এই অবৈজ্ঞানিক, আইনবিরোধী প্রথা বন্ধের জন্য পুলিশ-প্রশাসন সহ সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন ও প্রচার করে আসছে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি এবং হিউম্যানিস্টস অ্যাসোসিয়েশন। সাধারণ মানুষ এমনকি ঐ সমস্ত এলাকার কিছু মানুষ এই প্রথা বন্ধের পক্ষে মত প্রকাশ করলেও পুলিশ-প্রশাসনকে কোন দিনই এই প্রথা বন্ধের জন্য কোনও ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। এমনকি ২০০৯ সালে তৎকালীন পুলিশ সুপারের কাছে এই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে এই প্রথা বন্ধের জন্য আবেদন করা হলে, তৎকালীন পুলিশ সুপার জানান,এমন কোনও ঘটনা এই জেলায় হয় বলে জানা নেই। যদিও প্রতি বছর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই মৃত মানুষের মাথার খুলি এবং মৃত শিশুর পচাগলা দেহ নিয়ে নাচানাচি হয়। আজকের এই সাধারণ মানুষের এগিয়ে এসে গাজন সন্ন্যাসীদের আটক করা এবং পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে যথাযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হওয়ায় আশার আলো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।




GAJON- KURMUN (3) copy
গাজনে মড়ার মাথা এবং মৃত শিশুর দেহ নিয়ে নৃত্যের ফাইল ফটো। কুড়মুন।
GAJON- KURMUN (13) copy
গাজনে মড়ার মাথা এবং মৃত শিশুর দেহ নিয়ে নৃত্যের ফাইল ফটো। কুড়মুন।

Friday, March 23, 2012

আন্তর্জাতিক নারী দিবস- একটু অন্যভাবে ভাবুন।


আন্তর্জাতিক নারী দিবস- একটু অন্যভাবে ভাবুন।

                                                             

                                                 

                        পাঁচ বাড়ি বাসন মাজে যে মহিলা ,

                                                             তাকে বলি এবার স্বাধীনতার

                                                             পঞ্চাশ বছর। জানো?

                                                             ব্যাজার রাগ রাগ মুখ করে মহিলা বলল,

                                                              তার এখনও দু বাড়ি কাজ বাকি।

                              (এই দিনগুলো/ ব্রত চক্রবর্তী )



দেখে ভালো লাগে কত কত গৃহবধু ছাপোষা জীবন ছেড়ে নতুন কিছু করার উদ্দ্যেশ্য আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পথে নামেন হাজার সেমিনারের লাখো বক্তৃতায় প্রেক্ষাগৃহগুলি গমগম করে সেদিন তাদের আবেগ, পরিশ্রম, সংগ্রামী মানসিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং সহানুভুতি থাকলেও নারী আন্দোলনের কিছু পুরো ব্যাপারটিই কিছু মৌলিক প্রশ্নের সামনে এসে যায়

     হিন্দু-মুসলিম-খ্রীষ্টান যে ধর্মের দিকে তাকাই না কেন দেখতে পাবো সেখানে নারী রয়েছে দাসের ভুমিকায় আর পুরুষ প্রভুর মনুর বিধান হিন্দুদের এক অলঙ্ঘনীয় বিধান সেখানে চোখ রেখে দেখুন, পাবেন-

“পিতা রক্ষতি কৌমারে ভর্তা রক্ষতি যৌবনে

রক্ষন্তি স্থবিরে পুত্রা না স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যহর্তি ।।

(মনুর বিধান ৯/৩)

অর্থাৎ নারীকে পিতা রক্ষা করবে কুমারী কালে,স্বামী যৌবনকালে, বার্ধক্যে পুত্ররা, স্ত্রী মানুষ স্বাধীনতার যোগ্যই নয় মনুসংহিতার ২/৬৭ তে আরও আছে যে,

বৈবাহিক বিধিঃ স্ত্রী নাং সংস্কারো বৈদকঃ স্মৃতঃ

পতিসেবা গুরৌবাসো গৃহার্থোহাগ্নি পরিক্রিয়া ।।

     কি বুঝলেন প্রিয় পাঠক পাঠিকারা ? আপনি হিন্দু হলে আপনাকে মানতেই হবে যে, বিয়েই নারীর বৈদিক উপনয়ন, পতিসেবা হল সারা জীবন গুরুগৃহ বাসের সমান, আর গৃহকর্মই হল হোমস্বরূপ অগ্নিপরিচর্যা যে সমস্ত মহিলারা একই সাথে ফেব্রুয়ারি মাসে শিবরাত্রি করেন আর মার্চে নারীদিবসে গলা ফাটান তাদের বলি শুনুন, মনু বলেছে ( ৫/১৫৪)- পতি সদাচারহীন, পরস্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্কযুক্ত বা গুণহীন হলেও সতী স্ত্রী সেই পতিকে দেবতার মতই পূজা করবে

      হিন্দুধর্মের সর্বত্র পুরুষের লাম্পট্য, অত্যাচার, শাসন কে পদে পদে স্বীকার করা হয়েছে, বাহবা দেওয়া হয়েছে তৈত্তীরিয় সংহিতায় (৬/৬/৮/৫) বলা হয়েছে- “ যজমান দীক্ষার দিনে গণিকা সাহচর্য বর্জন করবেন, তারপরদিন পরস্ত্রীর সাহচর্য এবং তৃ্তীয় দিন নিজ স্ত্রীর সাহচর্য বর্জন করবেন” অর্থাৎ দীক্ষার দিনেও পরস্ত্রীর সাহচর্য করার অনুমতি আছে দীক্ষার দিন ছাড়া অন্যান্য দিনে গণিকার কাছে যাওয়ার নিষেধ নেই আসলে গণিকা বা পরস্ত্রীর সাথে বিছানায় ওঠাকে হিন্দু ধর্ম কোনো দিনই নিষেধ করেনি বরং বেশ তোল্লায় দিয়েছে মনুসংহিতা এবং পুরাণ অনুযায়ী হিন্দু দেবতাদের  জন্ম, তাদের নারীলোলুপতা, নারীসঙ্গের যে বর্ণনা পাই তা যে কোনো পর্ণোগ্রাফির গল্পকেও হার মানাবে পৃথিবীর বড় বড় ধর্মগ্রন্থগুলোর মধ্যে ইসলাম এসেছে সবার পরে, অর্থাৎ সবচেয়ে আধুনিক তবু দেখা যায় নারী দমনে তার কাছে অন্যান্য ধর্মমতগুলোও হার মেনে যায় কোরাণে আছে (সুরা নিসা ২২৩), “স্ত্রী তোমাদের শস্য ক্ষেত্র তাই তোমাদের শস্য ক্ষেত্রে যেভাবে খুশি প্রবেশ করতে পারো” মুসলিম শরিয়া আইন তো ভয়ঙ্কর একজন স্বামী তার একগুচ্ছ স্ত্রীদের ওপর যখন তখন যৌন অধিকার ফলাতে পারে- যা ধর্ষনেরই নামান্তর স্বামীর অধিকার আছে কোনো কারন না দেখিয়ে শুধুমাত্র তিনবার তালাক শব্দটি উচ্চারণের মাধ্যমে যখন তখন স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার কেনিয়া, ঘানা, সোমালিয়া, মিশর, নাইজেরিয়া, সুদান সহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে খৎনা প্রথা কি নির্মম কি ভয়ঙ্কর স-অব এসেছে ধর্মের হাত ধরে খৎনার সময় বালিকার চিৎকার ঢেকে রাখতে আশেপাশের মহিলারা সুর করে গাইতে থাকে “আল্লা মহান, মহম্মদ তার নবী; আল্লা আমাদের সমস্ত পাপ থেকে দূরে রাখুক” মুসলিম নীতিনির্দেশক গ্রন্থ হাদিশে রয়েছে “নারী শয়তানের রূপে আসে আর শয়তানের রূপে যায়” অবশ্য নারীদের চুড়ান্ত ভাবে  অপমান করতে হিন্দুরাও কম যায়না মহাভারতের অনুশাসন (৩৮)পর্বে চোখ রাখলেই পাবেন, “ তুলা দন্ডের একদিকে যম, বায়ু, মৃত্যু, পাতাল, বাড়োবানল, ক্ষুরধার বিষ, সর্প ও আগুন কে রেখে অপরদিকে নারীকে স্থাপন করলে ভয়ানকত্বে উভয়ে সমান সমান হবে” কোথাও কোথাও নারীদের জোঁকের সাথে তুলনা করা হয়েছে তো কোথাও লাঠ্যৌষধ দেওয়ার কথাও বলা আছে

      ভারত রাষ্ট্রের আস্তিনে ঢোকানো তুরুপের তাস বিবেকানন্দও যে নারী প্রগতির আন্দোলনে বাধা দিয়েছেন। তিনি বরাবর সতীদাহ প্রথার পক্ষে ছিলেন, বিধবাদের পূনরায় বিবাহ পছন্দ করতেন না, মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন। যদিও বিবেকানন্দের কর্মজীবনের অর্ধশতাব্দী আগেই রামমোহন সতীদাহ বন্ধে ব্রতী হয়েছিলেন, বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ চালু করেছিলেন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ রোধের জন্য আন্দোলনে নেমেছিলেন। হ্যাঁ। এটাই সত্যি। বিবেকানন্দের নিজের লেখা বই, পত্রাবলী পড়লেই বেরিয়ে আসে সত্যি টা। আসলে তিনি পুরুষতান্রিক সমাজের আর পাঁচটা সমর্থকের মতই ছিলেন, যারা চায়- নারীরা শিক্ষায় দীক্ষায় পুরুষদের সমকক্ষ হতে সচেষ্ট না হয়ে, মানুষ না হয়ে, নারী হিসেবেই তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করুক। নারীর শিক্ষা হবে একটি খন্ডিত মানুষে পরিণত হওয়ার শিক্ষা। যে শিক্ষা আবর্তিত হবে গৃহকর্ম, রন্ধন, সেলাই, সহ্যগুণ, লজ্জা, সেবা, আচার ইত্যাদি বিষয়ে উৎকর্ষতা লাভের মধ্য দিয়ে। হে হিন্দু ফেমিনিষ্টরা দ্বিচারিতায় ভুগবেননা, যেকোনো একদিকে যান

      তবে, শুধু কি নারীই শোষিত? নাকি নারীকে দমন করছে যে পুরুষ, সেও তার সমাজের কাঠামোর প্রেক্ষিতে একই ভাবে শোষিত হচ্ছে না? ক্ষমতা যার হাতে সেই শোষন করতে পারে। তাই আমরা দেখেছি যে কোনো নারীই যখন ক্ষমতার পিরামিডে ওপরের দিকে বসেছে তখন সেও একই ভাবে মেতেছে শোষণ খেলায়। ইন্দিরা গান্ধি থেকে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, প্রিন্সিপ্যাল মিস পাকড়শী থেকে কমলার মা- তাকিয়ে দেখুন একবার। রাজনীতি,দুর্নীতি,সৌন্দর্য্য,যশ,অর্থ- ক্ষমতার উৎস অনেক কিছুই হতে পারে। স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে মানুষের। যার অর্ধেক পুরুষ, অর্ধেক নারী। তাই আমাদের মত দেশে স্বাধীনতাহীনতার সমস্যাটি শুধু নারীর নয়, পুরুষেরও, যাদের সিংহভাগ কোনও না কোনও ভাবে স্থূল অর্থেই পরাধীন। যেসব লেখক, বুদ্ধিজীবি,ও সমাজ বিজ্ঞানীরা আজ নারী স্বাধীনতার পক্ষে কলম ধরেছেন তারা জানেন নারী স্বাধীনতা নিয়ে কলম চালানো নিরাপদ, সাথে উপরি পাওনা প্রগতিশীলতার তকমা। কিন্তু দেশের মানুষের সার্বিক স্বাধীনতার প্রশ্নে সরব হলে, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুললে ধনিক শ্রেণি, তাদের পাপোশ সরকার, পুলিশ-প্রশাসনের সক্রিয় বিরোধিতার সামনা সামনি পড়তে হবে, রাষ্ট্রের তল্পিবাহক প্রচারমাধ্যমগুলি ব্ল্যাক আউট করবে, এসব অবধারিত বলেই তারা দেশের মানুষের সার্বিক স্বাধীনতার প্রশ্নটি নিয়ে আশ্চর্য রকম নীরব থাকেন। তাদের প্রায় সবাই ঝালে ঝোলে অম্বলে থাকাটাই পছন্দ করেন। তারা নারী দমনের অন্যতম হাতিয়ার বলে ধর্ম কে আঘাত করতে চাননা। কারণ তারা বরাবরই রাষ্ট্র নামক সিস্টেমটির কাছে প্রগতিশীল থাকতে চান। আন্দোলনকারীরা ভাবতে বসেন না, এতদিন নারীদের দমিয়ে রাখার ফলে যেমন লিঙ্গের ভিত্তিতে সমাজের অর্ধেক মানুষ বিভক্ত বিভক্ত ছিলেন, পিছিয়ে ছিলেন চিন্তায়-চেতনায়। তেমনি নারীবাদী আন্দোলনের গতিমুখ অনেকাংশেই পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে পড়লে নারী-পুরুষের বিভেদটি রয়েই যাবে, যাতে লাভ হবে ক্ষমতার শীর্ষে বসে থাকা শোষকদেরই।

      নারী আন্দোলনে থাকব এবং মনে প্রানে হিন্দু বা মুসলিম বা খ্রীষ্টান থাকব, শিবের মত বর পাওয়ার জন্য শিবরাত্রি পালন করব এও যেমন হয়না তেমনি নারী আন্দোলনকে শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে শোষিতদের আন্দোলনের বাইরে গিয়ে ভাবাটাও মুর্খামির পর্যায়ে পড়ে কেননা ধর্মের ভিত্তিতে, জাতপাতের ভিত্তিতে, বর্ণের ভিত্তিতে যে বিভাজন চলে সেই বিভাজনেরই একটি অংশ হল লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন মানুষ এভাবে যতই বিভাজিত হতে থাকবে ততই শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শোষিতদের ক্ষুব্ধতা, প্রতিরোধ, সংগ্রাম ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হতে হতে অণু পরমাণুতে পরিনত হবে



কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ

১)যুক্তিবাদের চোখে নারীমুক্তিঃ প্রবীর ঘোষ

২)নারীঃ হুমায়ুন আজাদ

৩)আনন্দবাজার পত্রিকা

৪) স্বামী বিবেকানন্দের বানী ও রচনা (পঞ্চম খন্ড)

৫) এই দিনগুলোঃ ব্রত চক্রবর্তী

Monday, January 23, 2012

জারোয়া নাচ এবং ভারত সরকার


আন্দামান নিকোবর দীপপুঞ্জের গভীর অরণ্যে কিছু পর্যটক খাবারের বিনিময়ে নগ্ন জারোয়াদের নাচ দেখছে এবং এসবের আয়োজন করেছে কিছু পর্যটন সংস্থা, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও সেনা- এরকমই অভিযোগে উত্তাল আন্দামান প্রশাসন এবং মিডিয়াকুল। মিডিয়া এও বলছে আন্দামানে এই হিউম্যান সাফারি নাকি বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। এধরনের অভিযোগে যেখানে কেন্দ্রিয় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হয়া উচিৎ, সেখানে আন্দামান প্রশাসন প্রাথমিক ভাবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিতে চাইছে। এমনকি, যে প্রথম এই নাচের ভিডিও ফুটেজটি তুলেছিল এবং মিডিয়াকে দিয়েছিল তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাইছে। এটা নিজেদের দোষ ঢাকতে অন্যদিকে পাবলিকের মন্যগ ঘোরানোর চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।

     নগ্ন হিংস্র জারোয়ারা আজ কমতে কমতে মাত্র ২৪০ জনে এসে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা টুকুও কতদিন থাকবে বলা যায়না। দীর্ঘ বছর ধরে মনোবিদ, সমাজবিদদের দ্বারা ওদের পাল্টানোর চেষ্টা করলে আজ হয়তো সমাজের মূলস্রোতে আনা যেত। তা না করে ওদের নাচ দেখিয়ে বিদেশি পর্যটকদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা? ছি।

Monday, September 12, 2011

THE BENGALI FILM 'CHATRAK' AND PAOLI-ANUBRATA'S NACKED BED SCENE

         ‘ছত্রাক সিনেমায় সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় পাওলি দামের বিছানা দৃশ্যে অভিনয় করার ঘটনায় এপার-ওপার দুই বাংলারই তামাম মিডিয়া গোষ্ঠী উত্তেজনায় ফুটছে। আনন্দবাজার পত্রিকা প্রথম পাতাতেীই নিউজটি কভার করল তো চ্যানেল টেন শুরু করল রতিকলার ফুটেজ দেখাতে। এ পত্রিকা বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়। বাচ্চা থেকে বুড়ো-অনেকেই ইন্টারনেটে ইউটিউব খুলছে বাংলা সিনেমার নায়িকার পর্নো সিন দেখতে।

      ১১ সেপ্টেম্বর, রবিবার, বাঁকুড়ায় যুক্তিবাদী সমিতির সাপ্তাহিক স্টাডিক্লাশের প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল সিনেমা ছত্রাক। ঘটনাচক্রে এই দিনটি হিউম্যানিষ্টস অ্যাসোসিয়েশনের দশম প্রতিষ্ঠা দিবসও। শ্রীলঙ্কার পরিচালক বিমুক্কি জয়াসুন্দরের এই দ্বিভাষিক ছবিটিতে নায়িকার ভুমিকায় অভিনয় করেছেন পাওলি দাম। বিতর্ক শুরু হয়েছে ছবির একটি দৃশ্য নিয়ে যেখানে দেখা যায় যে, নায়িকা তার সহ-অভিনেতা অনুব্রতর সাথে ওরাল সেক্সে মত্ত। প্রায় চার মিনিট দীর্ঘ এই ক্লোজ আপ দৃশ্যটিতে পাওলি-অনুব্রত সম্পূর্ণ নগ্ন, একটুও সুতো নেই। টলিউড তো দূর অস্ত, বলিউডও সামনের কয়েকবছরে এরকম সিনে পৌঁছাতে পারবেনা হলফ করে বলা যায়।

            আ্লোচনা জমে উঠেছিল ডাঃ অনিন্দ্য রায়ের অনবদ্য বিশ্লেষন, কবি সুদীপ চট্ট্যোপাধ্যায়ের তথ্যনিষ্ঠ বক্তব্য, এবং সমাজসেবী ভাস্কর সেনের অসাধারণ কনক্লুশনে। সেখানে ছিলেন ঝাড়খন্ড স্টুডেন্ট ফেডারেশনের মুখপাত্র অমরেন্দ্র টুডু, ওই সংগঠনেরই সাগিনা মাহাত, এপিডিআর কর্মী অনিকেত রায়, সমাজসেবী বাপ্পাদিত্য হাজরা, যুক্তিবাদী সমিতির সুধীর হাঁসদা, আমি সহ আরো অনেকে। আলোচনার প্রথম পর্বে আলোচকরা এক বিষয়ে সিদ্ধান্তে এলেন যে, ঐ সিনেমায় পাওলির ওরাল সেক্সের দৃশ্যটি কতটা ন্যাচারাল বা কতটা ভালগার, চিত্রনাট্যের পরিপ্রেক্ষিতে দৃশ্যটির অবতারনার প্রয়োজন ছিল কি ছিল না, ঘোমটার আড়ালে থাকা বাঙ্গালী রমণীকূলের রক্ষণশীলতায় জোর ধাক্কা দিল কি দিল না-এসব নিয়ে আলোচনা করা বৃথা। কেননা কোন্ দৃশ্যকে আমরা ভালগার বলব সেটা আপেক্ষিক এবং ম্যান টু ম্যান ভ্যারি করে। আর সব ছবির পরিচালকই বলবে এই দৃশ্যটির শৈল্পিক প্রয়োজনীয়তা আছে, তার উদ্দেশ্য যতই না বাজারি হোক। বরং আমাদের আলোচনা হতে পারে এই সিনামাটি নিয়ে মিডিয়া গোষ্ঠীর ভয়ঙ্কর সব মতামত নিয়ে। এ টু জেড সব পত্রিকা্র এক সূর-বাংলা সিনেমা এতদিনে সাবালক হল। পাওলির-অনুব্রতর নগ্নতার দৃশ্যটিকে সবাই বাংলা চলচ্চিত্রের ম্যাদামারা সফরের অন্যতম বাঁক বলে মনে করছে। তাদের ভাবখানা এমন, যেন কয়েকটি থ্রি-এক্স মার্কা পর্নো দৃশ্য থাকলেই সিনেমা হয়ে যায় সাবালক আর তার নায়ক নায়িকারা সাহসী। পাওলি পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যদি বিছানায় যৌনতার সময় আমাদের গায়ে কাপড় না থাকে তবে পর্দায় সেই চরিত্রে অভিনয়ের সময় গায়ে কাপড় রাখতে হবে কেন?

       সুদীপ চট্টোপাধ্যায় তুললেন স্তানিস্কোভস্কি থেকে ব্রেখটের কথা। উঠে এল শিল্পের ক্রমবিকাশের প্রসঙ্গ। আর্টস ফর আর্টসসেক এর ধারনা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কি ভাবে বদলে যায় আর্টস ফর হিউম্যানসেকে। দেশে দেশে কমিউনিজমের হাওয়া এক্ষেত্রে সদর্থক ভুমিকা নিয়েছিল। অনিন্দ্য রায় বোঝালেন-শিল্প কি? ঘটনাকে অভিনয়ের মাধ্যমে রিয়েলিষ্টিক করে তোলা। গল্প, চিত্রনাট্য,অভিনয়- সবে মিলে দর্শকের সামনে এমন এক ইলিউশ্যন তৈরি হবে যাতে সে সত্যি বলে মনে করে। কোনো খুনের দৃশ্যকে আরও ভালো ফুটিয়ে তোলার জন্য কি সত্যি সত্যিই খুন করতে হয়? শোলে সিনেমায় গব্বর সিংযের এক থাপ্পড়ে মাছিটাকে মেরে ফেলা কি বলে দেয় না- সে কী চাইছে? একটি বিখ্যাত ইংরেজি সিনেমার একটি দৃশ্য- যেখানে একটি প্যারাম্বুলেটরে বসে থাকা শিশু ঢালু রাস্তায় গড়াতে গড়াতে যাচ্ছে, আর শিশুর বাবা পিছুপিছু দৌড়চ্ছেন বাঁচাতে। হঠাৎ দেখা গেল উলটো দিক থেকে একটি ট্রাক আসছে। না। শিল্পের প্রয়োজন মেটাতে কোনো সংঘর্ষের দৃশ্য দেখানো হয় নি। পরের সিনে সাদা স্ক্রিন। একটু একটু করে ভরে গেল রক্তিম আভায়। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি তাহাদের কথায় মিঠুনকে দেখা গেছে মাঠে পায়খানা সারতে। গল্পের প্রয়োজনে। কিন্তু চিত্রনাট্যের বা শিল্পের প্রয়োজনে তাকে সম্পুর্ণ উলংগ অবস্থায় দু পা ফাঁক করে সেই কাজটি করতে দেখা যায়নি। পারমিতার একদিনে অথর্ব শ্বাশুড়ীর ভুমিকায় অনবদ্য অপর্ণা সেনের প্রস্রাব দৃশ্যটিও কি একবারও কারোর মনে হয়েছে ভাল অভিনয় হয়নি? সেখানেও কিন্তু ওই ভাল অভিনয় করার জন্য তাকে উন্মুক্ত হতে হয়নি। কিছুদিন আগে জাপানীজ ওয়াইফ সিনেমায় নায়ক রাহুল বোসের স্ব-মৈথুন দৃশ্যের কথা ভাবুন। শিল্পের প্রয়োজন দেখাতে গিয়ে রাহুলকে সম্পূর্ন নগ্ন করা হয়নি। তাতেই দর্শক যা বোঝার বুঝে নিয়েছে। এক দশক আগের হিন্দি সিনেমা কেয়া কহনা তে নায়িকা প্রীতি জিন্টা কুমারী মা, কি অসাধারন সাহসী মহিলার গল্প।

           গোয়ালতোড়ের বাসিন্দা অমরেন্দ্রর চাছাঁছোলা বক্তব্য, কম পোশাক পরা যদি সাহসিকতার পরিচয় হয় তাহলে আমাদের দেশের গ্রামের নারীরা সবাই খুব সাহসী বলতে হবে, কারণ তাদের কারও উর্ধাঙ্গে পোশাকের বাহুল্য থাকেনা বললেই চলে। অনিকেত রেখা কালিন্দী, আফসানা খাতুন, পদ্মা রুইদাসের প্রসঙ্গ টেনে বললেন এরা কেউ নিজের বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙ্গেছে, কেউ বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে গেছে বাল্যবিবাহের প্রতিবাদে। একমাস আগেই মানবাজারের মায়া বাউরি এলাকার চোলাই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমাছিলেন, তাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং শোষনের বিরুদ্ধে যে সব মহিলারা নিজের জীবনের সমস্ত আশা আকাঙ্খা বিসর্জন দিয়ে বন্দুক তুলেছেন হাতে, জীবন কাটাচ্ছেন জঙ্গলে তারা কি কেউ সাহসী নয় নাকি তাদের বোধ-বুদ্ধি সাবালিকার মত নয়? সাহসিকতার সঙগা কে দেবে? ধনকুবের মিডিয়া গোষ্ঠীরা? যারা রাষ্ট্রের শোষণ ব্যবস্থার অন্যতম একটি পায়া রূপে কাজ করে এবং ছলে বলে কৌশলে দেশের যুবসমাজকে নানা লোভ, অপসংস্কৃতি, ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী করে রাখতে সর্বদা বদ্ধপরিকর।

        আসলে যারা সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন এবং যারা পর্দার পেছনে সকলেই সব কিছু জেনে শুনে সজ্ঞানে বাজারে নতুন কিছু নামানোর চেষ্টায় চার মিনিটের এই রগরগে সিনটি সিনেমায় রেখেছেন। পাওলি যেভাবে বিদেশের রেড কার্পেটে হাঁটাহাটি করা শুরু করেছেন তাতে কালের তত্ত্ব মেনে বার্লিন, কান কি কোথাও দু-একটা পুরস্কার জুটে গেলেও জুটে জেতেও পারে। কিন্তু তাতে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি জগতে কোনো পরিবর্তন হবে? নাকি বাংলা সিনেমায় কোনো প্রভাব পড়বে? ক্রমাগত এরকম চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে থাকলে ভবিষ্যতে এদেশের সেন্সর বোর্ড ক্লোজ আপে নেওয়া চার মিনিটের সেই দীর্ঘ শটটি যেখানে দুজনেরই সমস্ত যৌনাঙ্গ স্পষ্ট প্রতীয়মান, বাদ দেবেই দেবে- হলফ করে বলা যাবে তো?

Monday, August 15, 2011

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পশুবলি


মানভুমের জেলাগুলিতে মনসা পুজোয় পশুবলি সেরকম কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা নয়। হাজার হাজার মনসার থানে লাখে লাখে পাঁঠা, ভেড়া, মুরগি, হাঁস বলি দেওয়া হয়ে থাকে। সমস্যাটি সৃষ্টি হল অন্য জায়গায়। গঙ্গাজলঘাটি থানার সারাংগপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মনসা পুজো উপলক্ষ্যে পশুবলি কেন হবে এই প্রশ্ন নিয়ে যুক্তিবাদী সমিতির তরফ থেকে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চিঠি দেওয়া হয় ১ আগস্ট ২০০৯। সাথে সাথে পশুবলি বন্ধ করে ভারতীয় আইনকে মান্য করার অনুরোধও জানানো হয় ওই চিঠিতে। চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয় নিত্যানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, গঙ্গাজলঘাটি থানা, গঙ্গাজলঘাটির বিডিও, বাঁকুড়া জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শককে। চিঠি পাওয়া মাত্রই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রামের ষোলোআনার মাতব্বরদের সাথে আলোচনায় বসে। রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট সেই মাতব্বরদের রায়, পুজো এবং পশুবলি যেমন হচ্ছিল তেমনই হবে কোন নড়চড় হবেনা। গত কয়েক বছরে ওই এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমিতির ভালোই বেসতৈরি হয়েছিল যার ফলে গাঁয়ের যুব সম্প্রদায়ের একাংশ পশুবলির বিপক্ষে। কিন্তু প্রতাপশালী মোড়ল শ্রেনীর রক্তচক্ষু প্রদর্শনের কাছে তারা নেহাতই শিশু। যুক্তিবাদী সমিতির তরফ থেকে থানায় যোগাযোগ করা হলে থানা জানিয়ে দেয় তারা এ বিষয়ে কিছু করতে অপারক। বেশ, ধরা হল এলাকার উদ্যোগী বিডিওকে। বিস্তর আলোচনার পর বিডিও সাহেবও পিছপা হলেন। বিদ্যালয় পরিদর্শক, গ্রাম পঞ্চায়েত সর্বত্রই চালাকি করে পিছলে যাওয়া উত্তর। একটি বে-আইনী এবং সামাজিক অপরাধ বন্ধ করতে প্রশাসনের দরজায় দরজায় বারে বারে হত্যে দেওয়ার পরেও যুদ্ধটি শেষ হল একরাশ হতাশাকে সম্বল করে। বিদ্যালয়ে পড়তে আসা কচি মন আবার তাদের পাঠস্থানে দেখল রক্তের হোলি খেলা।



২০১০ সালে মনসা পুজোর আগে আগে দেখা গেল আরও দুটি বিদ্যালয়-১)মালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ২) মনসা বিদ্যাপিঠ এ পশুবলি হয়। এই দুটির অবস্থানই বাঁকুড়া শহরে। মনসা বিদ্যাপিঠে ক্লাশরুমের মধ্যেই হাঁড়িকাঠের ফ্রেম নির্মান করা আছে। বিষয়টি জানানো হয়েছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এমনকি রাজ্যপাল পর্যন্ত। বিদ্যালয়ে বলি বন্ধের আবেদনে কয়েকশো মানুষের ইন্টারনেটে করা স্বাক্ষর পাঠানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে, কিন্তু প্রাক ভোট পর্বে তারা এদিকে তাকাবার প্রয়োজন মনে করেননি।



কিছুদিন আগে তথ্য জানার অধিকার আইন’- এ বাঁকুড়া জেলার জন তথ্য আধিকারিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বছর দুয়েক আগে ২০০৯ সালের ১ আগষ্ট গঙ্গাজলঘাটি থানার সারাংগপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মনসা পুজো উপলক্ষ্যে পশুবলি বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে যে আবেদন করা হয় এই দু বছরে সে নিয়ে প্রশাসনের তরফে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানান। জবাব এল। জবাবে দেখলাম ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের চাকরি বাঁচাবার মত করে একটি উত্তর দিয়েছেন।



এবছরও যেন বিদ্যালয়ে মনসা পুজো উপলক্ষ্যে পশুবলি না হয় তার অনুরোধ করে গত ১৫ জুলাই ২০১১ তে চিঠি দেওয়া হয় বাঁকুড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানকে। কপি দেওয়া হয় বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলা শাসক থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত। আজ, অর্থাৎ ৬ আগষ্ট অবধি শুধু মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে একটি চিঠি এসেছে যাতে জানা যাচ্ছে উনি সংশ্লিষ্ট সহ বিদ্যালয় পরিদর্শক কে ব্যাপারটি সম্বন্ধে বিশদ খোঁজখবর নিতে বলেছেন।



তন্ত্রে বলা হয়েছে, দেহস্থ আত্মা উষ্ণ শোনিতের দ্বারা সঞ্জীবিত থাকেন; শোনিত ঠান্ডা হইলে আত্মাকেও দেহ ত্যাগ করিতে হয়; সুতরাং আত্মাকে ভোগ দিতে হলে উষ্ণ শোনিতই সর্বোৎকৃষ্ট ভোগ। মুন্ডমালাতন্ত্র ও বৃহৎসারতন্ত্রে আছে, শক্তির উদ্দেশ্যে ছাগ বলি দিলে বাগ্মী হয়, মেষ বলি দিলে কবি, মহিষ বলিতে সম্পদ বৃ্দ্ধি, মৃগ বলি দিলে মোক্ষফল ভাগী হওয়া যায়, গোধিকা বলি দিলে মহাফল লাভ করা যায়, নরবলি দিলে মহাসমৃদ্ধি লাভ হয়, অষ্টসিদ্ধির অধিকারী হওয়া যায়। বৈষ্ণব, শৈব, শাক্ত, সৌর এবং গাণপত্য-হিন্দু ধর্মের এই পাঁচটি ধারার মধ্যে কেবলমাত্র শাক্তদের মধ্যে বলির রেওয়াজ আছে। ভারতীয় ইসলামীদের মধ্যে শিয়া এবং সুন্নি দুই সম্প্রদায়ই বকরিদের সময় গরু, উঁট, দুম্বা কুরবানি দেয়। ধর্মের ধ্বজাধারীরা প্রচার করে থাকেন, ধর্মীয় কারনে পশুবলি দিলে মানসিক শক্তির বিকাশ হয়। তারা যুক্তি রূপে টেনে আনেন তন্ত্রের কথা। অথচ পুজোর নামে এই নৃশংস প্রথা কোনো ভাবেই মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করেনা বরং দুর্বল এবং অবলা প্রানীদের যে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয় এতে খুনী মানসিকতার জন্ম নেয়। বিশেষত শিশুমনে বলিপ্রথার কু প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এ থেকে মানসিক রোগ, ভীতি, হিংস্রতা বৃদ্ধি, নিদ্রাহীনতা হতে পারে। সারা পৃ্থিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের এমনটাই অভিমত। আমাদের আলোচ্য বিদ্যালয়টির শিশুগুলি মনের ওপর কি ঘটছে তা সহজেই অনুমেয়।



এখন দেখা যাক ধর্মীয় কারনে পশুবলির বিরুদ্ধে আমাদের দেশের আইন কি বলছে?



The prevention of cruelty to animals act, 1960 অনুসারে, প্রকাশ্যে পশুবলি নিষিদ্ধ। কোন প্রত্যক্ষদর্শী ওই বলির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানালে মন্দিরের পূরোহিত সমেত পূজো কমিটির কর্মকর্তা ও বলি দানে অংশগ্রহনকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে। আবার Wild life protection act অনুসারে যে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী প্রানী হত্যা দন্ডণীয় অপরাধ। জেল এবং জরিমানা দুটোই হতে পারে। Public nuisance act অনুসারে কোনো ব্যক্তির চোখের সামনে বলি দেওয়া যায় না।



ভাবলে অবাক হতে হয়, পশুবলির বিরুদ্ধে এতগুলি জোরালো আইন থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত আমাদের দেশে দুর্গা, কালি, মনসাপুজো, ইদের কুরবানীর সময় কত কত পাঁঠা, ভেড়া, গরু, উঁট নির্বিচারে বলি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে উঁটের মত একটি বিরল প্রজাতির প্রানীকে কুরবানির সময় অকারনে হত্যা করা পরিবেশের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক। আর দেশের নির্লজ্জ সরকার ধর্মের দোহায় দিয়ে এইসব বে-আইনী প্রথাকে পশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে ভারতীয় আইন ব্যবস্থাকে কদর্য রূপে বলাৎকার করছে। স্বাধীনোত্তর ভারতে কোনোদিনই সরকার আইনগুলিকে বাস্তবে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেনি। এক্ষেত্রে বামপন্থী ডানপন্থী সব শেয়ালেরই এক রা। আমাদের রাজ্যে ৩৪ বছর একটি কমিউনিষ্ট সরকারের শাসন চলার পরেও পশুবলি বন্ধে প্রশাসনিক স্তরের কোনো উদ্যোগ নেই। বরং তাদের জমানায় প্রতিটি থানায় বামপন্থী পুলিশ ইউনিয়নের উদ্যোগে ফি বছর ঘটা করে কালি পুজো হত, যাতে পশুবলিও হয়ে থাকে। গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় কমিউনিষ্ট নেতাদের পরিচালনায় হয়ে থাকা পুজ়োয় শয়ে শয়ে প্রানী হত্যা হয়ে থাকে।



কোনো এক কালে নরবলির প্রচলন ছিল, সতীদাহপ্রথা ছিল। শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই প্রথাগুলি দূর হয়নি, হয়ওনা। জনসচেতনতা এবং কঠোর আইনের সঠিক প্রয়োগে এই কুপ্রথাগুলিকে প্রায় বিদায় নিয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে আইনের যথাযথ প্রয়োগ একান্তই জরুরী, যেমন- দূষণরোধ, চোলাইঠেক বন্ধে, ডাইনিপ্রথা রোধ, পশুবলি রোধ ইত্যাদি। আমাদের সরকার সব গুলি ক্ষেত্রেই পরাজিত। উলটে আমাদের মত যে সব সংঘঠন জনসচেতনতার কাজটুকু করতে যায় তারা প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং রাজ্যের শাসক দলের সরাসরি বিরোধীতার শিকার হয়। তবুও আশা ছাড়া যায় না। একবুক আশা নিয়েই বর্ধমানের বিখ্যাত সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ২০০৫ সালে গিয়েছিলাম, যেখানে ৩০০ ওপর পাঁঠা বলি হত সেবার সংখ্যাটি নেমে এসেছিল ২০ টি তে। কমলাকান্ত কালিবাড়ির ২০ টি পশুবলি কমে দাঁড়িয়েছিল ২ টি তে। রক্ষাকালিবাড়িতে কর্তৃপক্ষ পোস্টার দিলেন জনমতের কারনে এবার বলি বন্ধ করা হল। রবীন্দ্রনাথও তো সারাজীবন বলিপ্রথার বিরুদ্ধে ছিলেন। আমাদের জন্যেই লিখে গেছেন বিসর্জনের মত নাটক। শুধুমাত্র ২৫ বৈশাখ আর ২২ শ্রাবনে গদগদ ভঙ্গিতে কবিতা পাঠেই তাঁকে সম্মান জানানো শেষ হয়ে যায়? তাঁর চিন্তাধারাকে সম্মান জানাতে আমরা এটুকু করতে পারিনা?