Wednesday, September 4, 2019

ফার্স্ট বয় ফার্স্ট গার্লরা প্রাথমিক শিক্ষক হতে চায় কি?

ফার্স্ট বয় ফার্স্ট গার্লরা প্রাথমিক শিক্ষক হতে চায় কি?
কে ভালো, কে খারাপ, কী ঘটে, কে ফাঁকিবাজ- সে নিয়ে তো হরদম লড়ে যাচ্ছি। এখন বরং আলোচনা করি কী হওয়া উচিত, সে নিয়ে। এই আলোচনাটি হাইপোথিটিক্যাল। এখানে পশ্চিমবঙ্গ-ভারত, কেন্দ্র-রাজ্য, চাকরি পাওয়া- না পাওয়া, সরকারি-বেসরকারি, আমি-তুমি, ব্যক্তিগত সেন্টিমেণ্টের কোনো জায়গা নেই।
ক্লাসের ভালো লেখাপড়ার ছেলেরা চলে যায় ইঞ্জিনিয়ারিং , ডাক্তারিতে। মনপসন্দ রোজগার সেখানে। যারা পড়ে থাকে জেনারেল কলেজে ভর্তি হয়। অল্প স্বল্প কলেজ পড়ে হয় সাধারন চাকুরে, একটু বেশিদিন ধরে ধৈর্য্য নিয়ে পড়লে হাইস্কুল শিক্ষক, আরও একটু বেশি সময় নিয়ে পড়লে অধ্যাপক। মোটামুটি এটিই সিনারিও। এখানে কোনো ব্যতিক্রমের প্রসঙ্গ টানছি না। কারন ব্যতিক্রম ব্যতিক্রমই। তা সে যতই উজ্জ্বল হোক বা অনুজ্জ্বল।
যাই হোক। এবার পড়ে রইল এমন একটা অংশ যারা এটার মধ্যে পড়ছে না, কিম্বা যারা নানারকম ডিগ্রির পরেও কোনও কারনবশত অন্যান্য পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন চাকরি খুঁজতে থাকে। কেউ ব্যবসা শুরু করে। এই সব খুঁজতে থাকা মানুষের একটা বড়ো অংশ প্রাথমিক শিক্ষকতায় যোগ দেয়। তাদের অনেকে হয়তো ইতিমধ্যে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করে ফেলেছে।
একজন প্রাথমিক শিক্ষক কত বেতন পান?
মোটামুটি বলা যায়, সরকারি বেতনভুক মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে নীচের দিকে। আর সমস্ত শিক্ষক কূলের মধ্যে সর্বনিম্ন।
তার কাজটি কী?
প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন পরিবেশ থেকে উঠে আসা, বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক গঠন সম্পন্ন শিশুদের জীবনের প্রথম দিকের পাঠদান। দুটি ভিন্ন বাড়ি থেকে আগত শিশুর মধ্যে আসমান জমিন স্বভাবগত পার্থক্য থাকে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষককে একই সাথে কয়েকঘণ্টার জন্য ছাত্রের খাওয়াদাওয়া, হাগু-মুতু, শরীর, কান্না-হাসি, মারামারি, মান-অভিমান - এসবের দ্বায়িত্ব নিতে হয়। যে দ্বায়িত্বের গুণগত মান শিশু ছাত্রের ভবিষ্যতের চরিত্র নির্ধারণ করে। ( ভারতের মত দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের আরও কিছু অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব নিতে হয়, সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না)
একটি রুমের মধ্যে একজন মাত্র প্রাথমিক শিক্ষকের কাছে অনেক সময় সব ক্লাসের ছাত্ররা সব বিষয়গুলি একসাথে পড়ে। সত্যি বলতে কী, এই কাজটিতে যথেষ্ট দক্ষতার প্রয়োজন। হয়তো একজন মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের চেয়েও বেশি। কারন বড় ছাত্রদের পড়ানোর ঝামেলা কম। দায়িত্ব অপেক্ষাকৃত কম। যিনি ইতিহাস বা জীববিজ্ঞান পড়াচ্ছেন, তিনি কাদের পাচ্ছেন? যারা ইতিমধ্যেই কয়েকটা ক্লাস টপকে এসেছে, পড়াশোনার সাথে অভ্যস্ত। আরও সুবিধে হল, সেই ছাত্ররা ইতিহাস ক্লাসে ইতিহাসের জন্যই মনোসংযোগ করতে পারে। কলেজের অধ্যাপকদের কাজটি আরও সহজ। তারা এমন একটি ছাত্রদলকে পায় যারা সেই নির্দিষ্ট বিষয়টির জন্য ইতিমধ্যেই জ্ঞানী বা জ্ঞান লাভ করতে উৎসাহী।
তাই ডিগ্রির ব্যাপারটা একটুক্ষণের জন্য সরিয়ে রাখলে এটাই দাঁড়াবে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন হওয়া উচিৎ সবচেয়ে বেশি। সমস্ত পেশার মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
মেধাবী প্রাথমিক শিক্ষক দরকার। অনেক বছর ধরে অনেক কিছু পড়াশোনা করা বিশাল কিছু জ্ঞানীগুণী না হলেও চলবে। সত্যি বলতে কী, কোনো একটি ব্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল ছাত্রদের প্রাথমিক শিক্ষাদানে আকর্ষিত করা দরকার। দশ ক্লাস বা বারো ক্লাসের পর একটা জবরদস্ত এন্ট্রান্স। এন্ট্রান্সে পেলে বছর পাঁচের ট্রেনিং। ট্রেনিং শেষে সর্বোচ্চ বেতনের নিশ্চিত চাকরি- 'প্রাথমিক শিক্ষক'। সব দেশে, সব প্রদেশে, সব যুগেই এটি হওয়া উচিৎ।
(এ সিস্টেমে চললে আরও একটা মজাদার ব্যাপার ঘটার সম্ভাবনা আছে। তখন কতকগুলো ঘরকুনো, স্বার্থপর, ছায়া প্রকাশণীর মডেল ক্লাসে ফার্স্ট নাও হতে পারে। পুরো হিসেব উল্টে যেতে পারে।)
বিঃদ্রঃ আমি প্রাথমিক শিক্ষক নই। আমার চোদ্দপুরুষের কেউ ছিলেননা। আমি আবার একদমই বেশি ডিগ্রিধারী নই। এই রচনাটি আজ থেকে দশ বছর আগে আমার অশিক্ষক বন্ধুদের সাথে আড্ডার নির্যাস।
Biplab Das
26-07-19

রামতনু লাহিড়ি ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ

১৮২৫ থেকে ১৮৫০। মাত্র ২৫ বছরের একটা উল্লম্ব লাফ।
খুব সহজে এর একটা সূচনাবিন্দু ধরা যেতে পারে। ১৮১৫। যে বছরে রামমোহন রায় স্থায়িভাবে কলকাতায় বাস করতে শুরু করেন এবং তাঁর জীবনের আসল কাজগুলি গুরুত্ব সহকারে হাত দেন। বলা যেতে পারে তিনিই এই লাফের অবিসংবাদী ‘রান-আপ’।
একজন ইউরোপিয়ান শিক্ষক বাঙালীদের মনে করাচ্ছিলেন তোমরা তো একসময় তর্কশাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলে। তিনি তরুণ হওয়ার আগেই লিখে ফেলেছিলেন ‘ফকির ওফ ঝুঙ্গিরা’। তাঁর ক্লাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয়ে তর্ক চলত। তাঁকে নিয়ে ভবিষ্যতের বাঙালি যতই বিতর্ক করুক না কেন তিনি যদি হিন্দু কলেজের চুম্বক না হতেন হয়ত আমরা আজ অনেক কিছুই দেখতে পেতাম না, এখনও আর্যাবর্ত বা মুঘলাই ঘুর্ণি তে পাক খেতাম। তিনি হেনরি ভিভিয়ান লুইস ডিরোজিও। ভুল। ইয়ংবেঙ্গল হয়তো অনেক ভুল করেছিল। কিন্তু ভুল যে অনেক সময় ঠিকের চেয়েও মূল্যবান। প্রমান গত শতকের সাতের দশক।
ভাবা যায়, টোল পণ্ডিতির যুগে দুটো পত্রিকা বেরোচ্ছে ‘জ্ঞানান্বেষণ’ এবং ‘এনক্যোয়ারার’।
১৮৩৩ এ নতুন চাটার্ড অ্যাক্টে ভারতীয়দের জন্য উচ্চপদস্থ সরকারি চাকরির বাজার খুলে গেলে ডিরোজিয়ানরা আরও মারাত্মক ভাবে মিশে গেলেন সমাজে, সমাজের ভালোমন্দে। হয় মুভমেণ্টে, নয় রিফর্মে। যার ফলে ১৮৪২ থেকে বেরোতে শুরু হল ‘বেঙ্গলি স্পেক্টেটর’। হ্যাঁ, বাঙালি যা ভাবত, ঘোমটা আর পাগড়িতে আটকে থাকা ভারত তখনো সেসব ভাবেনি।
বাঙালি ডিমস্থিনিস রামগোপাল ঘোষ। ব্রিটিশদেরও স্থানীয় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবার সমর্থনে লিখে ফেললেন ‘রিমার্কস অন দ্য ব্ল্যাক অ্যাক্টস’। তিনি বেচু চাটুজ্জ্যে স্ট্রিটে ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিলে চেতলা বাজার থেকে লোক ছুটে আসত তাকে দেখতে।
প্যারীচাঁদ মিত্র, রাধানাথ শিকদার- ডিরোজিওর দুই প্রিয় শিষ্য অনেকগুলি বুদুবুদকে এক করে গড়ে তুললেন ‘ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’। তাদেরই ‘মাসিক পত্রিকা’য় বাংলা গদ্য সংস্কৃত-মুক্ত হল। তারা মাপছিলেন। বাঙ্গালির নেওয়ার ক্ষমতা মাপছিলেন। বাঙ্গালিও নিতে নিতে পরপর নক্ষত্র প্রসব করতে লাগল। প্রথম দিকে সাংস্কৃতিক, পরে পরে রাজনৈতিক নক্ষত্র। সশব্দে বা নিঃশব্দে তারা জ্বলতেন।
তারাচাঁদ চক্রবর্তী। যাকে আমরা প্রায় কেউ চিনব না। বইএর পাতার কোনো এক লাইনে যিনি দুটো কমার মধ্যে রয়ে যাবেন, তিনি ইয়ংবেঙ্গলের নিঃশব্দ নেতা।
দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়? সবাই তো কুৎসা নিতে পারেন না। তিনিও পারেননি। ঐ বাংলা তাঁকে ঝেঁটিয়ে বিদেয় করেছিল উত্তরপ্রদেশে। কিম্বা সেই অনামী ডিরোজিয়ান, যিনি সন্নাসী হয়ে কাথিয়াওয়াড় চলে গেলেন, স্থানীয় রাজবিদ্রোহে অংশ নিলেন। তাকেও ঐ বাংলা মেনে নেয়নি।
অনেকেই পালিয়ে যাননি, শুধু লড়ে গেছেন, সমালোচিত হতে হতে। আর এঁরা সবাই, এঁদের সাথে রামতনু লাহিড়ি, হরচন্দ্র ঘোষ, শিবচন্দ্র দেব, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বা অক্ষয়কুমার দত্তরা যে অভাবনয়ীয় র‍্যাডিকেল রাজনীতির বীজ বুনে ফেলেছিলেন আজ তাকে তর্কযুদ্ধে পরাস্ত করে দিতে পারি বটে কিন্তু তার অনুভব অস্বীকার করতে পারিনা।
এদের নিয়েই বহু বছর আগে, ১৯০৩ সালে শিবনাথ শাস্ত্রী লিখে গেছেন বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘রামতনু লাহিড়ি ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ’।
বাঙালিকে জানতে যা পড়তেই হবে।

আমাজন ও ভারতের গল্প

যেমন করে গর্ত থেকে পিঁপড়ে বেরোয় বা মৌচাকে ঢিল পড়লে মৌমাছি, সেরকমই জঙ্গল থেকে পিল পিল করে লোক বেরোচ্ছে। আধা উলঙ্গ জংলি। ছেলে কোলে নিয়ে মায়েরা উর্ধশ্বাসে দৌড়োচ্ছে বড় রাস্তার দিকে। হাঁফিয়ে পড়ার জো নেই। পিছনে ফেলে এসেছে আদিম বাড়িঘর-পাথরের পাত্র-আঁশ ছাড়ানোর ঝিনুক।
হারু মিস্ত্রি। শুধু নামে নয়। পেশাতেও। ঘর ছাওয়ার কাজ করে সে।
দাদু খুব নাম-ডাকওয়ালা ছিল। বসন্ত-গ্রীষ্মে তিনমাস ঘরে ফেরার সময় পেতনা। কাছাকাছি কোথাও হলে হারুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেত।
বাবার সাথে হারু রোজই কাজে যেত। বাবা দশ কী কুড়ি ফুট উপরে উঠে কাজ করত। উঠোনে আঁটি বাধতে বাঁধতে হারু বই পড়ত। সামনে তখন মাধ্যমিক। হারুর পছন্দের বিষয় আবার ভুগোল। বাবা ওপর থেকে প্রায়ই চ্যাঁচাত, ‘দ্যাখত হারু, আড়ির কাঠটা সোজা হয়েছে কিনা’। বাবা বলার সাথে সাথে হারুকে ঘরের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াতে হত। ওপরের দিকে তাকিয়ে বলত, ‘ঠিক আছে’। ওদিকে উঠোনে ফেলে আসা বইয়ের পাতাগুলি হাওয়ায় উড়তে উড়তে একটা ওল্টানো ‘ব’ এর মানচিত্রে আটকে যেত। দক্ষিন আমেরিকা। বিপিন স্যার একদিন একটা ঢাউস রঙ্গীন বই দেখিয়েছে, ‘ব’ এর পেটটা পুরো সবুজ।
ওপর থেকে বাবা মাঝে মাঝেই ঝাঁঝিয়ে উঠত, ‘এগুলো খড় না বাল। চাষ করছে সব। ইংরিজিতে ধানের নাম। বলি, শুধু ভাত খেলেই হবে? গরুকে খেতে দিতি হবে না। ঘর ছাইতি হবে না? খড় কই, খড়? ভালো করে পড় বাপ। এ কাজে আর জুত নাই। সব শেষ। তোকে কেন জন্ম দিতে গেলাম। সন্তান আনা পাপ। আর কত কী দেখতি হবে কে জানে’। দূর দিগন্তের দিকে তাকিয়ে বাবা কথাগুলো বলত। কে জানে, উঁচুতে উঠে থাকত বলে বাবা হয়ত আরও বেশি কিছু দেখতে পেত।
জঙ্গলের মধ্যেও ছোট ছোট দেশ থাকে। নদী দিয়ে ঘেরা থাকে সেসব দেশের সীমানা। পুরুস, রিও-পৌনি, কুরুদরি- এসব নদীর নাম। নদীর মন মর্জিতে সীমানা পালটে যায় বারে বারে। সব সীমানা পেরিয়ে সব দেশগুলো এখন অন্য এক পৃথিবীর রাজপথে দৌড়ে যাচ্ছে। দেশে পড়ে আছে অসংখ্য ম্যাকাউ, টুকান, ক্যাপিবারা, জাগুয়ার।
দিগন্ত দেখতে দেখতে একদিন বাবা ওপর থেকে ধপ করে পড়ে গেল। নিচে আলগোছে পড়ে থাকা ভাঙ্গা জোয়ালের একটা অংশ ভস করে গেঁথে গেল পেটে। বাবার আধমরা শরীরটা আর নাড়িভুঁড়ি নিয়ে হারু রিকশাভ্যানে করে গিয়েছিল হাসপাতালে। জীবনের দীর্ঘতম যাত্রা।
বহুবার, বহুবার আগুন নিভিয়েছে সে। গ্রামে কারোর বাড়িতে আগুন লাগলে হারু ছুটে যায়, চালায় ওঠে, ভেঙ্গে দেয় খড়ের ছাদ। দাউ দাউ আগুনের মধ্যে বাড়ির নাড়িভুঁড়ি বের করতে করতে বারবার বাবার কথা মনে পড়ে।
এখন আর ঘর ছাওয়ার কাজ সেরকম আসেনা। রাজমিস্ত্রির সাথে মশলা বইতে মন চায় না। কোনো কোনো দিন চাল মিলে বস্তা বওয়ার কাজ করে। দুটো বাচ্চা, একটা বউ।
বেরোনোর পর এক এক করে গুনলে দেখা যেত প্রায় দশ লক্ষ লোক জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসেছে। পিছনে দাউ দাউ করে জ্বলছে একটা সবুজ রঙ। আমাজন।
হারু চালমিলের টিভিতে বসে বসে কদিন ধরেই আগুন দেখছে, দেখছে বিপিন স্যারের বইতে আগুন লেগেছে। রঙ্গীন মোটা মোটা পাতাগুলি গলে গলে পড়ে যাচ্ছে। বাবা কি ওপরে বসে বসে এসবই দেখতে পেত?
আজ ভোরে হারু বেরিয়েছে। আকাশের তারা দেখে দেখে পশ্চিম বরাবর হাঁটছে। বউটাকে বিছানায় চিরতরে শুইয়ে দিয়ে এসেছে। ঘুমন্ত বাচ্চাদুটো বাড়ির পিছনের ডোবার পাড়ে ঘাসের তিন হাত নিচে আরামে ঘুমোচ্ছে। আরও আরও অনেকটা যেতে হবে তাকে। কয়েক হাজার মাইল। যত পশ্চিমে যায়, পোড়া পোড়া গন্ধ নাকে ঘনীভূত হয়।
Biplab Das
24-08-2019

Wednesday, January 24, 2018

Sorry Uncle

A short movie for children.

Sorry Uncle

Youtube Link : https://youtuhttps://youtu.be/a6vffdpR9zo

Dear parents, Do not snatch their childhood...Let them express in their own way.

Cast: Barnalipi, Rakesur Rahman, Manshi Mitra.
Music & Editing:  Nirmalya Dutta.
Story & Direction: Biplab Das

Subscribe the YouTube channel : RATIONALIST. COM

Monday, October 23, 2017

দুটি বাদামী দাঁত পাল্টে দিতে চলেছে মানুষের ইতিহাস

দুটি বাদামী দাঁত।
মানুষের ইতিহাসকে এক লহমায় বদলে দিতে চলেছে দুটি বাদামি দাঁত। এর ফলে হয়তো বিবর্তনের ইতিহাসকেই নতুন করে লিখতে হতে পারে। জার্মানির এপেলসিম শহরের কাছে রাইন উপত্যকায় নুড়ি পাথরের মধ্যে পাওয়া দুটি দাঁতের কার্বন ডেটিং করে এমন‌ই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। গত ২০ অক্টোবর, শুক্রবার রিসার্চগেট পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণাপত্রটি এখন বিজ্ঞানীমহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুট শহরের কাছে এপেলসিম শহরটি এমনিতেই প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে স্বর্গরাজ্য। সারা বছর বহু দেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতত্ত্ববিদেরা এপেলসিমের আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়ান। এর আগে সেখান থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেরকম‌ই কিছু গবেষণার .......

Incepnow.com এ প্রকাশিত আমার এই লেখাটির বাকি অংশটুকু পড়তে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে-

http://incepnow.com/history-of-human-evolution-may-change/

Sunday, July 23, 2017

মিড ব্রেন অ্যাক্টিভেশনঃ প্রতারণার নতুন কৌশল

   
   
       অয়ন্তিকা কলকাতার একটি নামী স্কুলের ছাত্রী। তার এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত। এতক্ষণ অন্য বন্ধুরা কেউ গান কেউ মাউথ অর্গান নিয়ে আনন্দ করছিল, সে আসতেই, সকলের চোখ ঘুরে গেল তার দিকে। কিছুদিন আগেই বন্ধুরা জেনেছে, এই বাচ্চাটি তাদের মতো এলেবেলে নয়। দিনকয়েক আগে ওর মধ্যমস্তিষ্ক জেগে উঠেছে। কোনো একটি সংস্থা থেকে মিড ব্রেইন অ্যাক্টিভ করার যে কোর্স করাচ্ছে, সেই কোর্সে ভর্তি হয়ে এখন দিব্যচক্ষু গেছে খুলে। চোখ বাঁধা অবস্থায় দিব্যি বলে দিচ্ছে স্কেচ পেনের রঙ, বইয়ের পাতার সংখ্যা, এমনকি বই পড়েও দিচ্ছে গড়গড় করে। স্কুলে মাঝারি মানের পড়াশোনা করা বাচ্চাটি হঠাৎ কী করে এমন বদলে গেল, রহস্যটা কী, কায়দা করে জেনে নিতে হবে বলে ভেবে রেখেছিলেন বাকি বাবা মায়েরা। সে আসতেই শুরু হল কৌতুহলী প্রশ্ন।
      
     সায়েন্স ফিকশন নয়, কল্পবিজ্ঞানের গল্পও নয়। ঘটনাটি খাস কলকাতার এবং এই বছরেরই। একটুও অবাক হবেননা। গত দু বছর থেকেই কলকাতার বহু স্কুলে দু-চারটি এরকম বাচ্চা দেখা দিচ্ছিল যারা চোখ বাঁধা অবস্থায় জিনিসের রঙ বলে দিচ্ছে বা বই খাতা পড়ে দিচ্ছে। এবছর শুরু হয়েছে জেলার মফস্বল শহরগুলিতে। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তরচব্বিশ পরগণা জেলা ছেয়ে গেছে এরকম দিব্য চক্ষু খোলাবার সংস্থায়।
      
     কারা এরা? সত্যিই কী দিব্যচোখ বলে কিছু আছে? যদি আছে তা কী কেউ জাগ্রত করতে পারে? যদি পারে তাহলে কী উপায়ে তা সম্ভব?
      
     বছর চারেক আগে মিড ব্রেন অ্যাক্টিভেশনের কোর্স করিয়ে মুম্বই থেকে ব্যবসা জমানোর চেষ্টা করছিল 'মাইণ্ড টেক' নামের একটি সংস্থা।  কোর্স ফী ছাত্র পিছু  পঁচিশ হাজার। পশ্চিমভারতের পর তারা পাড়ি দিল দক্ষিণ ভারত। সেখানে ম্যাঙ্গালোর এবং কোচিনের বিজ্ঞানকর্মীদের কাছে বাধা পেল। কিন্তু দমে না গিয়ে তারা টার্গেট পয়েন্ট সরিয়ে নিয়ে এল কলকাতায়। বিজ্ঞাপন একটু পাল্টাতে হল। শুধুমাত্র চোখ বাঁধার অলৌকিক ক্ষমতায় বাঙালী ভিজবেনা বুঝে এর সাথে যোগ হল আরও পালিশ। যেসব শিশুরা সকালে ঘুম থেকে উঠতে গড়িমসি করে তাদের জন্য প্যাকেজের মধ্যে এল স্লিপিং অ্যাওয়েকনেস, একদিনে দুশো পাতা পড়ে ফেলার ক্ষমতার জন্য কোয়াণ্টাম রিডিং, বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে বাচ্চার ভবিষ্যত নির্ধারণের জন্য ডার্মাটোগ্ল্যাফিক্স ইন্টেলিজেন্সি টেষ্ট। বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানীরা এগুলোকে অপবিজ্ঞান বা সিউডোসায়েন্সের তালিকায় নথিভুক্ত করলেও এটা মিডব্রেন বেওসায়ীরা এটা জানে যে ভারত একটি বিশাল জনসংখ্যার দেশ, এখানে মাত্র এক শতাংশ মানুষকে এক টাকা করে ঠকাতে পারলেই কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়। কলকাতাতেও পরিবেশ তৈরিই ছিল। সেই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বাচ্চা। সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যেতে চায়না, সারাদিনের ইঁদুর দৌড়ে এক আধবার দুষ্টূমির সুযোগ খোঁজে। স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার সুযোগ না দিয়েই বাবা মা তাদের বাচ্চাদের সব বিষয়েই ফার্স্ট করতে চান। পড়া, নাচ, ছবি, সাতার, টেনিস, দাবা- সবেতেই অংশগ্রহণ করতে হবে। আর হ্যা, সবগুলোতেই ফার্স্টও হতে হবে। প্রতিযোগিতা শুধু মাত্র ছাত্রদের মধ্যে নয়, অভিভাবকদের মধ্যেও। ফ্ল্যাট কালচার, বাড়িতে চতুর্থ জনের অনুপস্থিতি, অফিসের বাইরে বাবার কোনো অস্তিত্ব নেই, মায়ের গর্ব শুধুমাত্র বাড়ির ফার্ণিচারে আর সন্তানে। হাঁস ফাস শুধু বাচ্চাটি করেনা, করছে বাবা মায়েরাও। মেলাঙ্কলিক অবস্থা থেকেই অলৌকিকতার নতুন ভার্সানে বিশ্বাস। আর এই সুযোগকে সুন্দরভাবে কাজে লাগাচ্ছে আগরওয়াল, কাপাডিয়ারা।
        
      তো হল কী, সেই আগরওয়াল খুললেন এখানে কিছু শাখা। একটি সালকিয়ায়। তারপর অন্যেরা একে একে গড়িয়াহাট, দমদম, গড়িয়া, হাওড়া। নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বমুলক প্রতিযোগিতা। যদিও গড়িয়াহাটেরটিই এখনও সবার চেয়ে এগিয়ে। জেলা গুলিতেও তারাই সবচেয়ে বেশি শাখা খুলতে পেরেছে।
    
       শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি ঘোষনা করেছেন বেসরকারি স্কুলগুলির অব্যবস্থায় লাগাম টানবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্কুলের অতিরিক্ত ফীজের দিকে নজর দিচ্ছেন। কিন্তু গোকুলে বাড়ছে যারা? গুগল খুললেই যে সব সংস্থাগুলো মিড ব্রেন, স্মার্ট ব্রেন, শার্প মেমরির নামে পকেট কাটছে তাদের কী হবে?
      
       জাদুকর জাদুর খেলা দেখান দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য। সেই খেলা দেখে আমরা বিস্মিত হলেও মনে মনে এটা বিশ্বাস নিয়ে বাড়ি ফিরি যে এতে অলৌকিক বলে কিছু নেই। আছে, বিশেষ কিছু কৌশল যা সাধারণ মানুষও চেষ্টা করলে আয়ত্ত করতে পারে।
    
       খুব পুরোনো একটি জাদু কৌশল হল চোখ বেঁধে মোটরবাইক বা সাইকেল চালানো। গত শতকের বিশের দশকে জাদুকর দুনিঙ্গার প্রায়শই চোখ বেঁধে গাড়ি চালিয়ে শপিংয়ে যেতেন। ডেভিড বার্গেলস ১৯৫০ সালে একটি আস্ত উড়োজাহাজকেই চালালেন চোখ বাঁধা অবস্থায়। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরে খুবই সূচারু হাতে সেটিকে অবতরণও করলেন। জেমস র‍্যাণ্ডিও একসময়ে এরকমই একটি স্টাণ্টবাজি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তার দু চোখের ওপরে দুটো প্রমাণ সাইজের পিৎজাকে রেখে চোখ কালো কাপড়ে বাঁধা হয়েছিল, তারপর একটা কালো দুই স্তরের মোটা ব্যাগকে মাথায় পরিয়ে ব্যাগের মুখটি গলার কাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল। গাড়ির পাশে সর্বক্ষণ ছিলেন একজন রিপোর্টার। যেদিকে যেদিকে রিপোর্টার যেতে বলেছিলেন, র‍্যাণ্ডি নিউ জার্সি শহরের সেদিকেই গাড়ি ঘুরিয়েছিলেন অবলীলাক্রমে। হায়দরাবাদের সরোজা রায়ও চোখ বেঁধে গাড়ি চালাতে পারতেন। মাত্র সাত বছর বয়সে দুনিয়ার ক্ষুদেতম ব্লাইণ্ডফোল্ড ম্যাজিশিয়ান হিসেবে নজর কাড়েন, পরে মাদ্রিদের বিশ্বম্যাজিক প্রতিযোগিতায় যোগ দেন।
    
       ৬ ফেব্রুয়ারি ২০০২, টাইম ম্যাগাজিনের শিরোনামে এল নাতালিয়া লুলোভা নামের এক রাশিয়ার বালিকা। লুলোভার পরিবার বছর তিনেক ধরেই আছে ব্রুকলিনে। টাইমের নিবন্ধকার একদিন দেখলেন, ম্যানহাটন শহরের আইন দপ্তরের ফুটপাতে বসে একটি বছর দশের বাচ্চা মেয়ে মায়ের কোলে মুখ গুঁজে কাঁদছে। কারণ কিছুক্ষণ আগেই নাকি জেমস র‍্যাণ্ডির চ্যালেঞ্জের কাছে তাকে গোহারা হতে হয়েছে। ঘটনাটি ছিল এরকম যে, র‍্যাণ্ডির বহুদিনেরই ঘোষণা- কেউ যদি কোনো অতীন্দ্রিয়, ঐশ্বরিক, অলৌকিক ক্ষমতার পরিচয় দিতে পারবে তাকে দেওয়া হবে দশ লক্ষ ডলার পুরস্কার। তো, র‍্যাণ্ডির ঘোষণার কথা শুনে লুলোভার কোচ মার্ক কমিশারভ তাকে নিয়ে এসেছিল ম্যানহাটনে। কমিশারভ নিজে একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হলেও লেনিনের দেশে তার পরিচিতি একজন প্যারানর্মাল ক্ষমতা তৈরির কোচ হিসেবেই। নাতালিয়াকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোচিং করিয়েছেন কিভাবে চোখ বাঁধা অবস্থায় যেকোনো বস্তুকে শুধুমাত্র ছুঁয়েই তার রং বলে দেওয়া যায়। এদিকে জেমস র‍্যাণ্ডি এডুকেশন্যাল ফাউণ্ডেশনের কর্মকর্তাদের চিড়ে শুকনো কথায় ভিজবে না। তাঁরাও পুরস্কার দেবার আগে বাজিয়ে নেবেন সবদিক দিয়ে। তবেই না কয়েকদশক ধরে তাঁদের চ্যালেঞ্জ অটুট আছে। তাঁরা প্রথমে নাতালিয়ার চোখে পরিয়ে দিলেন সাঁতারুদের চশমা। চশমার সামনেটা মুড়ে দিলেন স্পঞ্জ এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে। নাতালিয়া র‍্যাণ্ডিকে অবাক করে দিয়ে ওই অবস্থায় পর পর বলে দিতে থাকল তাকে ছুঁতে দেওয়া বস্তুর রঙ। এটা ওপেন চ্যালেঞ্জ। দর্শক হিসেবে হাজির ছিলেন বহু মানুষ। চ্যালেঞ্জের হারজিত নির্ধারণের  জন্য দু তরফেই একজন করে উকিল বসে চেয়ারে। দর্শকদের হাততালিতে যখন হলঘর ফেটে পড়ছে তখন র‍্যাণ্ডি এই পরীক্ষাটিই পূনর্বার করে দেখতে চাইলেন। এবারও নাতালিয়ার জিত হল। র‍্যাণ্ডি বুঝলেন তার বোকামিটা কোথায়। দ্বিতীয় পরীক্ষা থামিয়ে নাতালিয়ার চশমার চারদিকে লাগিয়ে দিলেন ইলেকট্রিক তার জোড়া দেওয়ার ব্ল্যাকটেপের মত একটি জিনিস। তিনি বিশেষ করে বোজাতে চাইছিলেন নাক আর চোখের মাঝখানের কোনা মতো স্থানটি। স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলেন নাতালিয়া কোনোভাবেই যেন চুলকোবার আছিলায় নাকে বা চোখে হাত না দেয়। ব্যাস। এখানেই কেল্লা ফতে। টানা একঘণ্টা চেষ্টা করেও হাজার ছুঁয়েও নাতালিয়া একটি বস্তুরও রঙ বলে দিতে পারেনি।
        
       তবে এসব ব্যাপারে সবচেয়ে শোরগোল ফেলেছিলেন বোধহয় ইউরি গেলার। পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা ‘নেচার’-এ ১৮ অক্টোবর ১৯৭৪ আমেরিকার বিখ্যাত বিজ্ঞান গবেষণাগার ‘স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট’-এর একটি রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই ইউরি চলে এলেন পৃথিবীর প্রায় সমস্ত সংবাদপত্রের শিরোনামে। বলা বাহুল্য ভেড়ার পালের গল্প সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
     
     
   

         ইউরি জন্মসূত্রে ইজরালীয়। তরুণ বয়সে ছিলেন ইজরালীয় গুপ্তচর সার্ভিসে, পরে প্যারাশুট-সেনা বিভাগে। বাইশ বছর বয়সে সেনাবাহিনী ছেড়ে যাদুকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। শিমসন শট্টাংকে সহকারী করেন। এই দুজনে মিলে করতেন কী, শহরের সম্ভ্রান্ত বাড়ির পার্টিগুলিতে জাদু খেলা দেখাতেন। সেখানে অন্যান্য জাদুর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল চোখ বাঁধার খেলাটি। দুজনের মধ্যে একজনের চোখ বাঁধা থাকে, অন্যজন দর্শকদের কাছ থেকে একটি একটি করে জিনিস নিয়ে তুলতে থাকেন, আর বাঁধা চোখের কাছ থেকে আসতে থাকে সঠিক বর্ণণা। এই জাদু দেখাতে দেখাতে ইউরির অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার দাবি যতই বাড়তে লাগল লণ্ডনের ম্যাজিক সার্কেল মনে করতে লাগল ইউরি জাদুখেলায় অলৌকিকত্বের দাবি করে রীতিমতো অন্যায় কাজ করছেন। অবশেষে ম্যাজিক সার্কেল ইউরির সদস্যপদ বাতিল করে দেয়।
    
       লণ্ডন বাতিল করল তো কী হয়েছে। সু্যোগসন্ধানী ইউরি একেবারেই কেয়ার করলেন না। বছর খানেকের মধ্যেই তার জীবনে এলেন মার্কিন ধণকুবের ড অ্যানড্রিজা পুহারিক। পুহারিক একাধারে বিজ্ঞানী এবং অতীন্দ্রিয় শক্তির অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত প্রাণ। পুহারিকের অর্থ, প্রচার, বিজ্ঞানকে কাজে লাগালেন ইউরি। এজন্য অনেক দেশের দূরদর্শনকে ম্যানেজ করে সেখানে অনুষ্ঠাণ করতে লাগলেন। সেসময় ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সংস্থার হয়ে গবেষনার কাজ করত। আমেরিকা বরাবরই প্যারাসাইকোলোজিস্টদের আঁতুড়ঘর। সেখানেরই কিছু প্যারাসাইকোলোজিস্ট কিছুদিন ধরেই ইউরির ওপর নজর রাখছিলেন। তারা এগিয়ে এসে ইউরির অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার ওপর পরীক্ষা করার জন্য স্ট্যানফোর্ড রিসার্চের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। প্যারাসাইকোলোজিস্ট এবং বিজ্ঞানী দুই সত্বাই আছে এমন দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হল ইউরিকে পরীক্ষা করার জন্য। এদের মধ্যে একজন হলেন ড পুটহফ, অন্যজন ড টার্গ। দুজনেরই তখন লেজাররশ্মির ওপর গবেষনা নিবন্ধ প্রকাশ হয়ে গেছে এবং বিজ্ঞানী মহলে অল্পবিস্তর পরিচয়ও আছে। ঠিক এরকমই খুঁজছিলেন ইউরি।
     
       তবে ইউরি গেলারের অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার কথা নেচার কখনই সমর্থনের সুরে প্রকাশ করেনি। তারা কেবলমাত্র স্ট্যানফোর্ড রিসার্চের রিপোর্টটি প্রকাশ করেছিল। এবং তাও গবেষনার দুবছর পরে। এমনকি নেচার এর সত্যতার কোনোরূপ দায়িত্বও নেয়নি।
     
       ইউরি তখন মধ্য গগনে। অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার প্রদর্শনে আরও মেতেছেন। চোখ বেঁধে বই পড়ে আর গাড়ি চালিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। এমন সময়ে জেমস র‍্যাণ্ডি ইউরি গেলারের অতীন্দ্রিয় ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে বই লেখেন, ‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট ইউরি গেলার’। এই বইতে গেলারকে কোপ্তা কাবাব বানানো হয়েছিল। ইউরি মামলা ঠুকে বসলেন র‍্যাণ্ডির বিরুদ্ধে। কোর্টে র‍্যাণ্ডি তাই তাই করে দেখাতে সমর্থ হলেন যা যা ইউরি দেখান। ব্যাস। মামলায় ইউরির হার হল এবং কোর্টের রায়ে র‍্যাণ্ডির মোকদ্দমা চালানোর পুরো খরচ আনা পয়সা হিসেবে মিটিয়ে দিতে হল তাকে। সেই থেকে সংবাদ শিরোনামে ইউরিকে আর দেখা যায়না।
      
        চোখ বাঁধা অবস্থায় শুধুমাত্র স্পর্শ করে বলে দেওয়ার ক্ষমতার কথা প্যারাসাইকোলোজিস্টদের বইতে ভুরি ভুরি পাওয়া যায়। সেই দীর্ঘ তালিকায় ১৮২০ সালের ওয়াশিংটনের এক বিশপ যেমন আছেন, হাল আমলের ইতালির মাঝবয়সী মহিলাও আছেন। প্রায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনোরূপ বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা হয়নি, বা হলেও সেই পরীক্ষার দশা হয়েছে ইউরির স্ট্যানফোর্ডের মতোই। কয়েকবছর আগে ইতালির এক মধ্যবয়স্কা যিনি নিজেকে আর জি নামে জনপ্রিয় করে ফেলেছিলেন বিজ্ঞানীদের পরীক্ষায় ডাঁহা ফেল করলেন। পাভিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্বাবধানে তাকে পরীক্ষা করলেন দুজন বিজ্ঞানী এবং একজন মনোবিদের একটি দল। একটি বাক্সের মধ্যে রাখা খামবন্ধ বস্তুগুলির পরিচয় দিতে আর জি ব্যর্থ হলেন।
        
        প্যারাসাইকোলোজিস্টদের মিথ্যে দাবিকে বাগে আনতে বিজ্ঞানী মহলেও কেউ কেউ একটু আগ বাড়িয়েই চোখ বেঁধে দেখতে পাওয়ার বিষয়টিকে পরীক্ষা করে দেখতে গেছেন। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা হতাশ। কেউ কালো কাপড়ের তলা দিয়ে দেখছিল তো কেউ চোখের পটির তলা দিয়ে দেখছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বস্তুটির গায়েই মসৃণতায় সূক্ষ পার্থক্য রাখা ছিল, অনেকটা অন্ধদের ব্রেইলি শিক্ষার মতো।
      
       ব্লাইণ্ডফোল্ডের জাদুগুলো ইউরোপে এখন এতই বেশি সহজলভ্য হয়ে গেছে যে প্রতিষ্ঠিত জাদুকরেরা এড়িয়ে চলেন। সেখানের ম্যাজিক বাজারে মাত্র ২৫ ডলার খসিয়ে যে কেউ এই জাদু শিখে নিতে পারছেন।
    
       আবার আসি ২০১৪ তে। মুম্বই থেকে দক্ষিণ ভারত হয়ে কলকাতা এবং বাংলার জেলাগুলিতে এল ব্লাইণ্ডফোল্ড। কোর্সগুলিতে প্রথম কদিন নাচা-গানা, গ্রুপ থেরাপি, মেডিটেশন শেখানোর পরই এক এক জন বাচ্চাকে তারা বেছে বেছে শেখাচ্ছে চোখ বেঁধে দেখতে পাওয়ার কৌশল। প্রতিটি সংস্থা তাদের শাখা খুলছে মহকুমা শহরেও। আকর্ষণীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি অফার আছে। শুধুমাত্র ঘর ভাড়া আর লোকাল ঝামেলা সামলে নিলেই বাচ্চা পিছু কমিশনের ব্যবস্থা বজায় আছে। এভাবে কোর্স করে আসা বাচ্চাদের বেশ কয়েকজনকে আমি নিজে পরীক্ষা করে দেখেছি, চোখে মেরে দিয়েছি আঠালো পটি। ব্যাস, সবার অলৌকিক ক্ষমতা মুহূর্তে ভ্যানিশ। মাস কয়েক ধরে বহু স্টেজে আমি ফাঁস করে চলেছি মিড ব্রেনের কৌশল। আমার ছয় বছর বয়সী কন্যা চোখ বেঁধে আমার পার্টনার হচ্ছে।
      
       এটা নিছক ম্যাজিক হলে নিশ্চয় কিছুই বলার থাকত না। কিন্তু মিড ব্রেন অ্যাক্টিভ করে দেওয়ার নামে এরা যেটা করছে তা হল বিশুদ্ধ প্রতারণা। বিজ্ঞান বলে, মস্তিষ্ককে ধার দেওয়ার কোনো শর্টকার্ট নেই। জন্টি রোডসের ক্ষিপ্রতা, গাওস্করের ধৈর্য কিম্বা রিচার্ডসের ইনটিউশন- সবই এসেছে দীর্ঘদিনের কঠোর অভ্যেস, পরিশ্রম আর নিয়মানুবর্তিতার পর। এর কোনো বিকল্প নেই। বাবা মায়েরা কবে বুঝবেন পৃথিবীর কোনো কোর্সই তার বাচ্চাকে চোখ বেঁধে দেখতে পাওয়ার ক্ষমতা এনে দিতে পারবেনা। এতে শুধু বাচ্চারা মিথ্যে বলা শিখছে। প্রথম দিকে তারা তার বাড়ির লোককে মিথ্যে বলছে, পরে বলছে বন্ধুদের এবং অন্যদের। যে মিথ্যে মজা দিয়ে শুরু হচ্ছে, পরে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে আর কোনোদিনই সত্যি হচ্ছেনা। যতদিনে বাচ্চা ল্যাটেন্সি পিরিয়ড থেকে সেকেণ্ডারি নার্সিস্টিক অবস্থায় পৌঁছবে, অভিভাবকদের আর কিছু করার থাকবেনা। পকেট ফাঁকা তো হবেই, সাথে সাথে বাচ্চার বিশ্বাসযোগ্যতাও কমবে। কোর্সের ট্রেনার বা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকরাও বেপাত্তা হয়ে যাবে। চিটফাণ্ডের খুদে সংস্করণ দেখতে পাব আমরা।

        
        অভিভাবকেরা তখনও হয়তো বুঝবেননা স্লিপিং অ্যাওকনেসের কোর্স করে নয়, বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠতে চায় কর্মব্যস্ত বাবা মায়েদের নরম আঙ্গুলের ছোঁয়ায়, ঘুমোতে চায় ঠাকুরমার ঝুলি শুনে। 

FOR YOUTUBE LINK- https://www.youtube.com/watch?v=8tUbtHyYZl8&t=2s

Monday, September 5, 2016

TERESA AND SAINHOOD

Vatican confers SAINTHOOD on Teresa not for writing a poetry, not for hard working, not for her degrees or even not for her service to the wretched people at Missionaries of Charity for her whole life. She has been declared a Saint for "The power to cure the ill with miracles".
So, the peoples among you who are excited for her Sainthood must accept that diseases can be cured by 'locket', 'tabiz', 'kaboch', or by 'mantras'.
If you fall ill, will you not go to hospital? if you go, it will be understood that either you are hypocrite or you don't have faith on Teresa.
Yes, remember one thing more, the owners and the reporters of the Anandabazar Patrika group and other Bengali media, who make you dancing in joy, do not keep their faith on 'lockets' or 'mantras' when they fall ill. And even Mamata Bandopadhyay and Sushma Swaraj rely on Hospitals when they fall ill.

So, think carefully, whether you are the only person who is 'be fooled'?